অ্যাজমার ইনহেলার করোনা সারায় দ্রুত

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক নতুন আশার বাণী শুনিয়েছেন। তারা বলেছেন, অ্যাজমা চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ ব্যবহারে করোনা আক্রান্তরা বাসায় বসেই দ্রুততার সঙ্গে সুস্থ হতে পারেন। এক পরীক্ষায় তারা এমনটি দেখতে পেয়েছেন। তারা বলেছেন, বুডেসোনাইড (Budesonide) নামের ইনহেলার দিনে দুই পাফ ব্যবহার করলে করোনা রোগীরা সুস্থ হতে পারেন। তবে যাদের বয়স ৫০ বছরের ওপরে এবং করোনার লক্ষণ দেখা দিয়েছে তারাই এমন রোগীর তালিকায় আছেন। এই ওষুধটি ব্যবহার করলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমে আসতে পারে। এই ওষুধটি দামেও সস্তা। একটি ইনহেলারের দাম ১৪ পাউন্ড প্রায়।

অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৬৩০ টাকা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে আরো বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার (এনএইচএস) অধীনে এই ওষুধটি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে অসংখ্য করোনা রোগী আছেন, যাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। তবে তাদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থায় সুযোগ খুবই সীমিত। এক্ষেত্রে তারা বিশেষ করে প্যারাসিটামল সেবন করে থাকেন। অ্যাজমা চিকিৎসায় যেসব ওষুধ প্রয়োগ করা হয় তা সরাসরি ফুসফুসে কাজ করে। এই ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষতি করে করোনা ভাইরাস। তাই ফুসফুসকে যদি সুস্থ রাখা যায়, তাহলে করোনা ভাইরাসের ক্ষতিকর ঝুঁকি অনেক কমে যেতে পারে। এ জন্য বুডেসোনাইড ওষুধটি বাসায় ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এটা বাসায় ব্যবহার করলে রোগীর ঝুঁকি অনেক কমে যেতে পারে। সংক্রমণ যদি হাল্কা হয় তাহলে বাসায়ই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন রোগী। এনএইচএস ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল মেডিকেল ডিরেক্টর প্রফেসর স্টিফেন পাওয়িস বলেছেন, বুডেসোনাইডের পরীক্ষার ফলে তিনি বেশ উদ্বেলিত। তিনি বলেন, এখন থেকে রোগীদের সঙ্গে সিদ্ধান্ত শেয়ার করার মাধ্যমে এই ওষুধটি ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্বাসযন্ত্র বিষয়ক চিকিৎসক প্রফেসর মোনা বাফাডেল অক্সফোর্ডের ওই গবেষণা টিমের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, পরীক্ষায় আমরা যা দেখতে পেয়েছি তা অনেকটা আনন্দের। আমরা যতটা সম্ভব, যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীদের সহায়তা করার চেষ্টা করছি।

করোনা মহামারি শুরুর দিকে অ্যাজমা রোগীরা যদি করোনায় আক্রান্ত হতেন তাহলে তাদের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করতো। এ নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা কমপক্ষে ১৭০০ মানুষের ওপর গবেষণা করেন। এসব মানুষের বয়স ৫০ বছরের ওপরে। তারা করোনা ভাইরাসে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন। পরীক্ষার প্রথম দুই সপ্তাহে বাসায় করোনার লক্ষণ দেখা গেছে এমন ৭৫১ জনকে বুডেসোনাইড সমৃদ্ধ ইনহেলার দিনে দু’বার দেয়া হয়। দু’সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পর দেখা যায়, যাদেরকে সাধারণ সেবার অধীনে রাখা হয়েছে তাদের চেয়ে গড়ে তিন দিন আগে এই গ্রুপের মানুষগুলো সুস্থ হয়েছেন। সাধারণ সেবার অধীনে যাদেরকে রাখা হয়েছিল তাদেরকে বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল এবং প্যারাসিটামল খেতে বলা হয়েছিল। যারা বুডেসোনাইড ইনহেলার নিয়েছিলেন তার মধ্যে প্রথম ১৪ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক তৃতীয়াংশ। অন্যদিকে এ সময়ে অন্য গ্রুপ অর্থাৎ যাদেরকে সাধারণ চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে এক চতুর্থাংশেরও কম মানুষ সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া যাদেরকে এই ইনহেলার দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে কম মানুষকেই হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়েছে। এমন মানুষের শতকরা হার ৮.৫ ভাগ। অন্যদিকে সাধারণ চিকিৎসা দেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির শতকরা হার ১০.৩। তবে এসবই হলো ওই পরীক্ষার অন্তর্বর্তী ফল। মার্চের শেষ নাগাদ এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রফেসর বাফাডেল বলেছেন, অন্য করোকোস্টেরয়েডের মতো বুডেসোনাইড ইনহেলারের মাধ্যমে ফুসফুসে চলে যায়। ফুসফুসে যেখানে ভাইরাস আক্রমণ করে সেখানে এটা কাজ করে এবং প্রদাহ কমিয়ে আনে। সহযোগী প্রফেসর গেইল হেওয়ার্ড বলেছেন যেসব রোগী উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন তাদেরকে এই ইনহেলার দেয়ার জন্য বলা হবে চিকিৎসকদের। এই ওষুধটি ইনহেলার, পিল, নাকের স্প্রের আকারেও পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে উইকিপিডিয়া। যুগান্তর।

এই পাতাটি ৬৯বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ