নিচে এই অপারেশনের সফলতা এবং অপারেশন-পরবর্তী যত্নের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো—
ম্যাক্রোস্টোমিয়া অপারেশনের ক্ষেত্রে সার্জনরা মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন—
▪ মাংসপেশির সংযোগ (Muscle Continuity):
মুখের চারপাশের মাংসপেশি (Orbicularis Oris) সঠিকভাবে জোড়া লাগানো, যাতে শিশু স্বাভাবিকভাবে হাসতে, কথা বলতে এবং খাবার চিবাতে পারে।
▪ প্রতিসাম্য (Symmetry):
মুখের দুই পাশের কোণ যেন একই উচ্চতায় এবং একই অবস্থানে থাকে।
▪ দাগ কমানো (Scar Management):
গালের দাগ ভবিষ্যতে যাতে কম চোখে পড়ে, সেজন্য বিশেষ সেলাই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় (যেমন: Z-plasty পদ্ধতি)।
সাধারণত শিশুর শারীরিক অবস্থা, ওজন এবং অ্যানেশথেসিয়া নেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করে অপারেশনের সময় নির্ধারণ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ মাস বয়সের মধ্যে এই অপারেশন করা সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়। তবে শিশুর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
অপারেশনের পরবর্তী ১–২ সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাওয়ানোর নিয়ম:
অপারেশনের পরপরই ড্রপার বা সিরিঞ্জের মাধ্যমে তরল খাবার খাওয়ানো হতে পারে, যাতে সেলাইয়ের ওপর চাপ না পড়ে।
কিছুদিন ফিডার বা সরাসরি স্তন্যপান করানো থেকে বিরত থাকতে বলা হতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)।
প্রতিবার খাওয়ানোর পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দিতে হবে, যাতে খাবারের কণা ক্ষতস্থানে না লেগে থাকে।
ক্ষতস্থানের যত্ন:
পরিচ্ছন্নতা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক লোশন বা মলম নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
হাত থেকে সুরক্ষা: শিশু যেন ক্ষতস্থানে হাত না দেয় বা চুলকাতে না পারে, সেজন্য গ্লাভস বা বিশেষ ব্যান্ডেজ (Arm restraints) ব্যবহার করা জরুরি।
ব্যায়াম: সেলাই শুকানোর পর অনেক সময় সার্জন হালকা ম্যাসাজ বা ব্যায়ামের পরামর্শ দেন, যাতে ত্বক শক্ত হয়ে না যায়।
সতর্কতা:
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে—
সেলাইয়ের স্থান থেকে রক্তপাত
ক্ষতস্থান অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া বা পুঁজ দেখা দেওয়া
শিশুর জ্বর বা উচ্চ তাপমাত্রা
সঠিক সময়ে অপারেশন করলে সফলতার হার অত্যন্ত বেশি। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে শিশু কথা বলা শুরু করলে স্পিচ থেরাপি (Speech Therapy) প্রয়োজন হতে পারে, যাতে শব্দ উচ্চারণ আরও স্পষ্ট হয়।
ম্যাক্রোস্টোমিয়া একটি সম্পূর্ণ সংশোধনযোগ্য জন্মগত ত্রুটি। আধুনিক প্লাস্টিক সার্জারি পদ্ধতিতে সঠিক সময়ে অপারেশন করলে কার্যকরী ও সৌন্দর্যগত দিক থেকে ফলাফল অত্যন্ত সফল এবং স্থায়ী হয়। এর ফলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, কথা বলা এবং সামাজিক জীবন স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
আপনার শিশুর এই সমস্যা থাকলে একজন অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক প্লাস্টিক সার্জন অথবা ক্র্যানিওফেসিয়াল সার্জনের পরামর্শ নিন। তিনি শিশুর অবস্থা মূল্যায়ন করে সর্বোত্তম সময় ও উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
ডাঃ এস এম আহসান শহীদ
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
শিশু সার্জারী বিভাগ
এমবিবিএস, এফসিপিএস (জেনারেল সার্জারী)
এমএস (শিশু সার্জারী)
পিএইচডি (হাইপোসপ্যাডিয়াস সার্জারী / পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি)
এফএসিএস (FACS)
ফেলো, আমেরিকান কলেজ অব সার্জনস
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী