সাধারন মানুষের মনে কিডনী নিয়ে অনেক শংকা কাজ করে। যেমন, পেটে/পিঠে আঘাত লাগলে অনেকে ভাবেন-কিডনি ঠিক আছে তো!!
দেশব্যাপী আল্ট্রাসনোগ্রাম এর বিপ্লব এর জন্য একটা সুবিধা হয়েছে-ইদানিং আমরা বাচ্চা মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় জন্মগত ত্রুটি আছে কিনা অনেকাংশে জানতে পারি। তবে সবচেয়ে বেশি যেটা জানতে পারি, তা হলো,বাচ্চার কিডনীতে প্রস্রাব জমে কিডনী ফুলে উঠেছে কিনা। ছোট বাচ্চাদের কিডনী, মুত্রনালী, মুত্রথলি, প্রস্রাবের নালীতে জন্মগত ত্রুটি আমাদের উপমহাদেশে অনেক বেশি। সবচেয়ে বেশি যেটা দেখা যায় তা হল, কিডনি ও মুত্রনালীর সংযোগস্থল সরু থাকার ফলে প্রস্রাব কিডনি থেকে মূত্রনালীতে যেতে পারেনা। ফলে কিডনী ফুলতে শুরু করে। বাচ্চা মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, সুতরাং দুনিয়ার আলো দেখার আগেই বাচ্চার কিডনী অনেকটা খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাধারনত কিডনীর অবস্থা মোটামুটি খারাপ না হওয়া পর্যন্ত শরীরে উপসর্গ বোঝা যায়না, সুতরাং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্য রোগের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফী করার সময় কিডনির রোগ বেশি ধরা পড়ে।
একসময় পেডিয়াট্রিক সার্জন ও পেডিয়াট্রিক ইউরোলজিস্ট কম ছিল, সুতরাং অনেক সার্জন পরামর্শ দিতেন বাচ্চা বড় হলে অপারেশন করার। কিন্তু এখন আলহামদুলিল্লাহ সেই সমস্যা কমে গেছে। অনেক বাবা মা সচেতন, জন্মের পর পর-ই বাচ্চা নিয়ে চলে আসেন। আমরা কয়েকটা পরীক্ষা করেই অপারেশন লাগবে কিনা সিদ্ধান্ত নিতে পারি।বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশন লাগেনা। ১৫-২৫% ক্ষেত্রে অপারেশন লাগে, এবং যদিও শুনতে ভয়ংকর লাগে, তবে অপারেশন আলহামদুলিল্লাহ অতটা জটিল ও নয়, তবে কিছুটা ব্যয়বহুল। এই মিষ্টি বাবুটার একটা কিডনী ৩৭% ড্যামেজ ছিল।অপারেশন করার পর আলহামদুলিল্লাহ হাসিমুখ। এই নিস্পাপ হাসিমুখ একজন সার্জনের অনেক আরাধ্য।