ম্যাক্রোসোমিয়া (Macrostomia) বা বড় মুখ একটি জন্মগত ত্রুটি, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সেরে যায় - ডাঃ এস এম আহসান শহীদ
Share on

২০-০১-২০২৬

ম্যাক্রোসোমিয়া (Macrostomia) বা বড় মুখ একটি জন্মগত ত্রুটি, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সেরে যায় - ডাঃ এস এম আহসান শহীদ

ম্যাক্রোস্টোমিয়া (Macrostomia) বা বড় মুখ একটি জন্মগত ত্রুটি, যেখানে মুখের এক পাশ বা দুই পাশে গালের দিকে ফাটলের মতো বিকৃতি দেখা যায়। সময়মতো সঠিক অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী যত্নের মাধ্যমে শিশুর স্বাভাবিক চেহারা ও কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

নিচে এই অপারেশনের সফলতা এবং অপারেশন-পরবর্তী যত্নের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো—


১. সফল অপারেশনের মূল লক্ষ্য

ম্যাক্রোস্টোমিয়া অপারেশনের ক্ষেত্রে সার্জনরা মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন—

▪ মাংসপেশির সংযোগ (Muscle Continuity):
মুখের চারপাশের মাংসপেশি (Orbicularis Oris) সঠিকভাবে জোড়া লাগানো, যাতে শিশু স্বাভাবিকভাবে হাসতে, কথা বলতে এবং খাবার চিবাতে পারে।

▪ প্রতিসাম্য (Symmetry):
মুখের দুই পাশের কোণ যেন একই উচ্চতায় এবং একই অবস্থানে থাকে।

▪ দাগ কমানো (Scar Management):
গালের দাগ ভবিষ্যতে যাতে কম চোখে পড়ে, সেজন্য বিশেষ সেলাই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় (যেমন: Z-plasty পদ্ধতি)।


২. অপারেশনের সঠিক সময়

সাধারণত শিশুর শারীরিক অবস্থা, ওজন এবং অ্যানেশথেসিয়া নেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করে অপারেশনের সময় নির্ধারণ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ মাস বয়সের মধ্যে এই অপারেশন করা সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়। তবে শিশুর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে সময় পরিবর্তিত হতে পারে।


৩. অপারেশন-পরবর্তী পরিচর্যা (Post-operative Care)

অপারেশনের পরবর্তী ১–২ সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

খাওয়ানোর নিয়ম:

ক্ষতস্থানের যত্ন:

সতর্কতা:

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে—


৪. দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল

সঠিক সময়ে অপারেশন করলে সফলতার হার অত্যন্ত বেশি। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে শিশু কথা বলা শুরু করলে স্পিচ থেরাপি (Speech Therapy) প্রয়োজন হতে পারে, যাতে শব্দ উচ্চারণ আরও স্পষ্ট হয়।


উপসংহার

ম্যাক্রোস্টোমিয়া একটি সম্পূর্ণ সংশোধনযোগ্য জন্মগত ত্রুটি। আধুনিক প্লাস্টিক সার্জারি পদ্ধতিতে সঠিক সময়ে অপারেশন করলে কার্যকরী ও সৌন্দর্যগত দিক থেকে ফলাফল অত্যন্ত সফল এবং স্থায়ী হয়। এর ফলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, কথা বলা এবং সামাজিক জীবন স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
আপনার শিশুর এই সমস্যা থাকলে একজন অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক প্লাস্টিক সার্জন অথবা ক্র্যানিওফেসিয়াল সার্জনের পরামর্শ নিন। তিনি শিশুর অবস্থা মূল্যায়ন করে সর্বোত্তম সময় ও উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।


ডাঃ এস এম আহসান শহীদ
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
শিশু সার্জারী বিভাগ
এমবিবিএস, এফসিপিএস (জেনারেল সার্জারী)
এমএস (শিশু সার্জারী)
পিএইচডি (হাইপোসপ্যাডিয়াস সার্জারী / পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি)
এফএসিএস (FACS)
ফেলো, আমেরিকান কলেজ অব সার্জনস

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী

 



এই পাতাটি ৩০৫বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ


25th April
বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল পালিত হয়। এই দিবসটি ম্যালেরিয়া রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০০৭ সালে এই দিবসটি ঘোষণা করে। ম্যালেরিয়া একটি মশাবাহিত রোগ, যা Plasmodium পরজীবী দ্বারা ঘটে এবং Anopheles মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়, বিশেষ করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়। এই দিবসে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি, প্রচারাভিযান এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয় যাতে এই রোগ নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সকলের সহযোগিতায় ম্যালেরিয়া মুক্ত বিশ্ব সম্ভব।