রাজডক - Rajdoc
Banolata-2023-03-09.gif
RR Properties

বাচ্চাদের অন্ডকোষ না নামা (Undescended Testis)  ডাঃ এস এম আহসান শহীদ
Share on

২৪-০৯-২০২৫

বাচ্চাদের অন্ডকোষ না নামা (Undescended Testis) ডাঃ এস এম আহসান শহীদ

বাচ্চাদের অন্ডকোষ না নামা (Undescended Testis) একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সমস্যা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে ভবিষ্যতে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এখানে বিষয়টির বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: অন্ডকোষ না নামা (Undescended Testis) কি? গর্ভাবস্থায় ছেলেশিশুর অন্ডকোষ দুটি তার পেটের ভিতরে তৈরি হয় এবং জন্মের আগেই তা ধীরে ধীরে নিচে নেমে স্ক্রোটাম (অন্ডকোষের থলে) এ অবস্থান নেয়। কোনো কারণে একটি বা দুটি অন্ডকোষই স্ক্রোটামে না নেমে পেটে বা ইংগুইনাল ক্যানালে (বৃদ্ধির রাস্তায়) আটকে থাকলে তাকে অন্ডকোষ না নামা বলে। চিকিৎসার গুরুত্ব ও লক্ষ্য সময়মতো চিকিৎসা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,নিম্নরূপ: 1. প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা: শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে স্ক্রোটামের তাপমাত্রা কিছুটা কম, যা শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য আদর্শ। পেটে বা ইংগুইনাল ক্যানালে আটকে থাকলে অন্ডকোষের তাপমাত্রা বেশি থাকে, ফলে ভবিষ্যতে শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বন্ধ্যত্বের risk বেড়ে যায়। 2. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো: অন্ডকোষ না নামা থাকলে পরবর্তী জীবনে টেস্টিকুলার ক্যান্সার (অন্ডকোষের ক্যান্সার) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যদিও ঝুঁকি কম, অন্ডকোষটি স্ক্রোটামে নামিয়ে আনা হলে এটি পরীক্ষা করা সহজ হয় এবং কোনো পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়। 3. হার্নিয়া সংশোধন: অনেক সময় অন্ডকোষের সাথে সাথে একটি হার্নিয়াও (Inguinal hernia) থাকে। অস্ত্রোপচারের সময় সেটিও সংশোধন করা হয়। 4. আঘাত প্রতিরোধ: স্ক্রোটামে থাকা অন্ডকোষ তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। ইংগুইনাল ক্যানালে থাকলে এটি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 5. মানসিক কারণ: বড় হয়ে শিশুর নিজের দেহের গঠন নিয়ে অস্বস্তি বা হীনমন্যতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা পদ্ধতি চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য অন্ডকোষটিকে স্ক্রোটামের ভিতরে তার স্বাভাবিক অবস্থানে স্থাপন করা। চিকিৎসা পদ্ধতি দুটি: ১. হরমোন থেরাপি (Hormone Therapy) · কীভাবে কাজ করে: এই থেরাপিতে HCG (Human Chorionic Gonadotropin) বা GnRH (Gonadotropin-Releasing Hormone) জাতীয় ইনজেকশন বা ন্যাসাল স্প্রে দেওয়া হয়। এই হরমোনগুলি শরীরে সেই সংকেত দেয় যা অন্ডকোষকে নামতে উদ্দীপিত করে। · সাফল্যের হার: এই পদ্ধতির সাফল্যের হার তুলনামূলকভাবে কম (প্রায় ২০% ক্ষেত্রে কাজ করে)। · কখন বিবেচনা করা হয়: সাধারণত অন্ডকোষ ইতিমধ্যেই স্ক্রোটামের কাছাকাছি (যাকে "গ্লাইডিং টেস্টিস" বলে) এমন ক্ষেত্রে বা অস্ত্রোপচারের পর সহায়ক হিসেবে এটি ব্যবহার করা হতে পারে। · বর্তমান অবস্থান: বর্তমানে, হরমোন থেরাপি প্রথম পছন্দের চিকিৎসা নয়। অস্ত্রোপচারই (সার্জারি) আদর্শ এবং সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি。 ২. অস্ত্রোপচার (সার্জারি) - অর্কিডোপেক্সি (Orchidopexy) এটি সবচেয়ে সাধারণ চিকিৎসা। · কী করা হয়: সার্জন একটি ছোট চিরা কেটে অন্ডকোষটিকে খুঁজে বের করেন, এর রক্তনালী এবং শুক্রনাালী (Vas Deferens) কে Carefully মুক্ত করে লম্বা করেন, এবং এটিকে স্ক্রোটামের ভিতরে স্থাপন করে সেখানে ফিক্স করে দেন। · সার্জারির সঠিক সময়: সাধারণভাবে, শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ১২ মাস (১ বছর) এর মধ্যে এই অস্ত্রোপচার করা ideal। জন্মের সময় অনেক শিশুর অন্ডকোষ না নামলেও প্রথম ৬ মাস এটি নিজে থেকেই নেমে আসতে পারে। তাই ৬ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। ৬ মাসের পর এটি নিজে থেকে নামার সম্ভাবনা নাই। তাই তখন অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করা হয়। · সুবিধা: এটি একটি সাধারণ অস্ত্রোপচার, সাধারণত দিনের সার্জারি (Day care surgery) হিসেবে করা যায়, অর্থাৎ শিশুকে হাসপাতালে রাত কাটানোর প্রয়োজন হয় না। সাফল্যের হার (৯০% এরও বেশি)। দ্রষ্টব্য: যদি অন্ডকোষ পেটের অনেক ভিতরে থাকে (Impalpable Undescended Testis), তাহলে ল্যাপারোস্কোপিক (Laparoscopic) পদ্ধতিতে (keyhole surgery) অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। চিকিৎসার ফলাফল (Outcome) · সাফল্যের হার: সময়মতো (১ বছরের মধ্যে) অস্ত্রোপচার করা হলে এর সাফল্যের হার। · প্রজনন ক্ষমতা: একতরফা (Unilateral) অন্ডকোষ না নামা থাকলে এবং সময়মতো চিকিৎসা করালে ভবিষ্যতে প্রজনন ক্ষমতা প্রায় স্বাভাবিক থাকে। দুইতরফা (Bilateral) অন্ডকোষ না নামা থাকলে, এমনকি চিকিৎসার পরও প্রজনন ক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু চিকিৎসা না করানোর তুলনায় ফলাফল অনেক অনেক ভালো। · ক্যান্সারের ঝুঁকি: অস্ত্রোপচারে অন্ডকোষ স্ক্রোটামে নিয়ে আসলে ক্যান্সারের ঝুঁকি হয় না, কিন্তু ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায় এবং স্ক্রোটামে থাকায় যেকোনো অস্বাভাবিকতা ( গোটা)ই নিজে থেকে পরীক্ষা করে বা ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করে শনাক্ত করা সহজ হয়। দীর্ঘমেয়াদী কী করণীয়? চিকিৎসার পরও শিশুটিকে নিয়মিত ফলো-আপে রাখা: 1. ডাক্তারি পরীক্ষা: সার্জন নিয়মিত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবেন যে অন্ডকোষটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে এবং স্ক্রোটামে সঠিক অবস্থানে আছে। 2. আত্ম-পরীক্ষা (Self-Examination): বয়ঃসন্ধির পর থেকে শিশুকে শেখানো উচিত,নিজে নিজে অন্ডকোষ পরীক্ষা করতে হয়, যাতে কোনো গোটা বা অস্বাভাবিকতােই ধরা পড়ে। সারসংক্ষেপ · অন্ডকোষ না নামা একটি সাধারণ সমস্যা, কিন্তু অবহেলা করা উচিত নয়। · সঠিক চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচার (Orchidopexy)। · সার্জারির আদর্শ সময় শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ১২ মাস (১ বছর) এর মধ্যে। · সময়মতো চিকিৎসা করালে প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো এবং অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। · চিকিৎসার পরও নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং বয়ঃসন্ধির পর থেকে আত্ম-পরীক্ষা শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে পরামর্শ: আপনার শিশুর যদি এই সমস্যা suspicion হয়, তাহলে দেরি না করে একজন শিশু সার্জন (Pediatric Surgeon) বা শিশু ইউরোলজিস্ট (Pediatric Urologist) এর সাথে পরামর্শ করুন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসার পরিকল্পনা করবেন। ডাঃ এস এম আহসান শহীদ সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান শিশু সার্জারী বিভাগ এমবিবিএস, এফসিপিএস (জেনারেল সার্জারী), এমএস (শিশু সার্জারী), পিএইচডি (হাইপোসপ্যাডিয়াস সার্জারী/পেডিয়াট্রিক ইওরোলজী) এফএসিএস (FACS) ফেলো অব আমেরিকান কলেজ অব সার্জনস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী



এই পাতাটি ৩১০বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ





যোগাযোগ
প্যারামেডিকেল রোড
লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী
Email: info@rajdoc.com
a part of Rajshahi Hub