আপনি যদি এমন একজন নারী হন যিনি গর্ভধারণের জন্য চেষ্টা করছেন, তাহলে আপনার হয়তো জানা আছে যে, সফল গর্ভধারণের জন্য আপনার শরীরের কতগুলো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একদম ঠিকঠাক মতো কাজ করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, আপনার ওভারিকে প্রতি মাসে একটি ডিম্বাণু উৎপাদন করতে হবে, এই প্রক্রিয়াকে অভুলেশন বা ডিম্বোস্ফোটন বলে। আপনার জরায়ুর গঠনগত বৈশিষ্ট্য সঠিক হতে হবে এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব খোলা থাকতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো ঠিকমতো কাজ না করলে আপনার গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যদি আপনার ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক থাকে তবে শুক্রাণু ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না বা নিষিক্ত ডিম্বানু জরায়ুতে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না। বিভিন্ন কারণে ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হতে পারে।
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হলে কি কি লক্ষণ দেখা দেয়?
নারীদের ক্ষেত্রে ব্লকড ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ।
ফ্যালোপিয়ান টিউব এক ধরনের পেশী নালী যা চুলের মতো সরু। এই টিউব জরায়ুর দুই দিকে অবস্থিত এবং এটি ওভারি থেকে পরিপক্ক ডিম্বাণু জরায়ুতে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। ফ্যালোপিয়ান টিউব গর্ভধারণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ, কারন এখানেই অধিকাংশ ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়। যদি এই টিউবের কোন একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় (যেমন- সার্জারির সময় বা ইনফেকশনের কারণে scar tissue সৃষ্টি হয়) তাহলে তা টিউব ব্লক করে দিতে পারে।
লক্ষণ
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চেষ্টা করেও (৬ মাস বা ১ বছর) গর্ভধারণ না করা এর বড় লক্ষণ হিসেবে ধরা যায়।
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হলে আরো কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- তলপেটে ব্যথা (এই ব্যথা যে কোন সময় বা শুধুমাত্র মাসিকের সময়ে হতে পারে) , এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি (নিষিক্ত ডিম্বানু জরায়ুতে প্রবেশ না করে ব্লকড ফ্যালোপিয়ান টিউবে আটকে যায়) ইত্যাদি।
কারন
বিভিন্ন কারণে ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হয়ে পারে-
বন্ধ্যাত্বে এর প্রভাব
নারীদের প্রজনন তন্ত্র তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত, ওভারি বা ডিম্বাশষ, জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব। এই তিনটির যে কোন একটিও যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে গর্ভধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। দুটি গর্ভাশয় ফ্যালোপিয়ান টিউবের কাছে অবস্থিত। ওভারি প্রতিমাসে একটি ডিম্বাণু বের করে দেয় যা ফ্যালোপিয়ান টিউবের মাধ্যমে জরায়ুতে এসে পৌঁছায়। ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক থাকলে ডিম্বাণু জরায়ুতে এসে পৌঁছাতে বা নিষিক্ত হতে পারে না।
শনাক্তকরণ
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক আছে কিনা সেটা দেখার জন্য ডাক্তারেরা সাধারণত এই টেস্ট গুলো করে থাকেন-
ডাক্তার আপনার মেডিকেল হিস্ট্রি যাচাই করে আপনার জন্য উপযুক্ত টেস্ট নির্ধারণ করে দিবেন।
চিকিৎসা ও সার্জারি
সার্জারির মাধ্যমে ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক ঠিক করা সম্ভব, যদিও এটা নির্ভর করে ঠিক কোন জায়গায় ক্ষত বা ব্লকটি রয়েছে। সার্জনেরা এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ম্যাথোড গুলো ফলো করে থাকেন -
ব্লকড ফ্যালোপিয়ান টিউব নিয়ে গর্ভধারণ
সার্জারির মাধ্যমে ফ্যালোপিয়ান টিউব খোলা হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবুও সার্জারির পরে নারীটি আসলেই গর্ভধারণ করবে কি না তা কতগুলো বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়-
যদি সার্জারি সফল না হয় তাহলে ডাক্তার আপনাকে In vitro fertilization বা IVF করার জন্য পরামর্শ দিবেন। IVF এর ক্ষেত্রে সরাসরি ওভারি থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে তা ল্যাবে নিষিক্ত করে জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়। তাই এক্ষেত্রে গর্ভধারণের জন্য ফ্যালোপিয়ান টিউবের কোন প্রয়োজন পড়ে না।
পূর্ব সতর্কতা ও যত্ন
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক আগে থেকেই প্রতিরোধ করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে, যেমন- যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করে যৌন বাহিত রোগ প্রতিরোধ করা ও সময়মতো এইসব রোগের চিকিৎসা করা। এছাড়াও তলপেটে যে কোন অপারেশন হলে সে বিষয়ে পূর্বেই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক নিঃসন্দেহে গর্ভধারণের পথে অনেক বড় একটা বাধা। কিন্তু সময় মতো যথাযথ পদক্ষেপ ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হয়। আপনার যদি ধারণা হয় হয়তো আপনার ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হয়ে পারে, তাহলে অতিসত্বর একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। আপনার ফার্টিলিটির জার্নি আপনার একার নয়।
“এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত এবং এটি কোন পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।”
👁 ১৯