ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য মূলত রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে কয়েক ধরনের সহজ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে খুব দ্রুতই জানা যায় একজন ব্যক্তির ডায়াবেটিস আছে কি না। সবচেয়ে প্রচলিত পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফাস্টিং ব্লাড সুগার, র্যান্ডম ব্লাড সুগার, HbA1c এবং ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT)।
ফাস্টিং ব্লাড সুগার (Fasting Blood Sugar):
এটি খালি পেটে করা হয়। সাধারণত অন্তত ৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় রক্তে শর্করার মাত্রা ১২৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার (৭.০ মিলিমোল/লিটার) বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিস হিসেবে ধরা হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি করা হয়।
র্যান্ডম ব্লাড সুগার (Random Blood Sugar):
দিনের যেকোনো সময় এই পরীক্ষা করা যায়। যদি রক্তে শর্করার মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার (১১.১ মিলিমোল/লিটার) বা তার বেশি হয় এবং সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে, তাহলে ডায়াবেটিস নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
HbA1c পরীক্ষা:
এই পরীক্ষার মাধ্যমে গত ২ থেকে ৩ মাসে রক্তে গড় শর্করার মাত্রা বোঝা যায়। তাই এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, সেটিও বুঝতে সাহায্য করে। HbA1c এর ফল ৬.৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিস ধরা হয়।
ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT):
এই পরীক্ষায় প্রথমে খালি পেটে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্লুকোজ মিশ্রিত মিষ্টি পানি পান করানো হয়। দুই ঘণ্টা পর আবার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। যদি তখন রক্তে শর্করার মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার (১১.১ মিলিমোল/লিটার) বা তার বেশি থাকে, তাহলে তা ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়।
ডায়াবেটিস অনেক সময় শুরুতে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তাই যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, অতিরিক্ত ওজন রয়েছে বা অনিয়মিত জীবনযাপন করেন, তাদের নিয়মিত পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো শনাক্ত করা গেলে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
👁 ৪০