বেশি মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবেটিস হয়?
Share on

বেশি মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবেটিস হয়?

মিষ্টি ছাড়া বাঙালির উৎসব যেন কল্পনাই করা যায় না। পায়েস, রসগোল্লা, মিষ্টি দই কিংবা রোজার সময় গরম জিলাপি—এসব আমাদের খাবারের সংস্কৃতিরই অংশ। তবে ডায়াবেটিসের কথা উঠলেই অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে, “বেশি মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবেটিস হয়?” বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

ডায়াবেটিস মূলত একটি বিপাকজনিত রোগ। যখন শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, অথবা তৈরি হলেও তা ঠিকভাবে কাজ করে না, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বংশগত কারণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত ওজন—সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু মিষ্টি খাওয়ার কারণেই সরাসরি ডায়াবেটিস হয় না। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো “ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স”। অর্থাৎ শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের নির্দেশ ঠিকভাবে মানতে চায় না। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস হওয়ার ক্ষেত্রে বংশগত ঝুঁকি ও জীবনযাত্রার প্রভাব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এর মানে এই নয় যে ইচ্ছেমতো মিষ্টি খেলেও কোনো সমস্যা হবে না। অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার শরীরের ওজন বাড়ায়। আর স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিসের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া মিষ্টিজাতীয় খাবার দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে অগ্ন্যাশয়কে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, শুধু মিষ্টিকে দায়ী করলে পুরো ছবিটা বোঝা যায় না। ভাজাপোড়া খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কম শাকসবজি খাওয়া, দীর্ঘসময় বসে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রম না করা—এসবও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, নিয়মিত হাঁটাচলা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই মিষ্টি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং দরকার পরিমিতি। মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে মিষ্টি খাওয়া সাধারণত বড় সমস্যা নয়, যদি সামগ্রিক জীবনযাপন স্বাস্থ্যকর থাকে। ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে চাইলে নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কম রাখার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে বলা যায়, শুধু মিষ্টি নয়—পুরো জীবনযাপনই ডায়াবেটিস ঝুঁকির আসল চাবিকাঠি।

 

👁 ১০৭

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ