ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ
Share on

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

আমরা অনেকেই মনে করি ডায়াবেটিস মানেই একটি একক রোগ এবং সব রোগীর সমস্যা মনে হয় একই রকম। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডায়াবেটিস সবার এক রকম হয় না। রোগটি শরীরে কীভাবে বাসা বাঁধছে এবং ইনসুলিন হরমোন কীভাবে সাড়া দিচ্ছে—তার ওপর ভিত্তি করে ডায়াবেটিসকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।

খুব সহজ কিছু উদাহরণের মাধ্যমে চলুন জেনে নিই ডায়াবেটিসের প্রধান প্রকারভেদগুলো কী কী এবং সেগুলো কেন হয়।

 

টাইপ-১ ডায়াবেটিস

যখন শরীরের ইনসুলিন তৈরির 'ফ্যাক্টরি' পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরি করার কোষগুলোকে শত্রু ভেবে ধ্বংস করে ফেলে, তখন শরীরে আর কোনো ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না।

 

টাইপ-২ ডায়াবেটিস

শরীরে ইনসুলিন তৈরী হচ্ছে, কিন্তু শরীরের কোষগুলো তাকে চিনতে বা ব্যবহার করতে পারে না।

বিশ্বজুড়ে এবং আমাদের বাংলাদেশে শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীই এই টাইপ-২ তে আক্রান্ত। এই ক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন ঠিকই তৈরি হয়, কিন্তু শরীরের কোষগুলো সেই ইনসুলিনকে চিনতে বা ব্যবহার করতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স

 

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

গর্ভাবস্থার সাময়িক অতিথি।

অনেক নারীর আগে কখনো ডায়াবেটিস ছিল না, কিন্তু সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর (সাধারণত ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের দিকে) রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে হরমোনের যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে, তার কারণে ইনসুলিন হরমোন নিজের কাজ ঠিকমতো করতে পারে না।

 

প্রি-ডায়াবেটিস বা বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস হওয়ার ঠিক আগের 'সতর্কমূলক ঘণ্টা'।

রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কিন্তু ডায়াবেটিস বলা যায়—ঠিক ততটা বেশিও নয়। একে বর্ডারলাইন ডায়াবেটিস বলা চলে।

 

এক নজরে ডায়াবেটিসের প্রধান প্রকারভেদসমূহ

ধরন

মূল কারণ

কাদের বেশি হয়?

প্রধান চিকিৎসা

টাইপ-১

শরীরে ইনসুলিন তৈরিই হয় না।

শিশু, কিশোর ও তরুণদের।

প্রতিদিন ইনসুলিন ইনজেকশন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

টাইপ-২

ইনসুলিন তৈরি হলেও কাজ করতে পারে না।

বয়স্ক, স্থূলকায় ও অলস জীবনযাত্রার মানুষের।

সুশৃঙ্খল জীবন, সুষম খাদ্য, ওষুধ বা ইনসুলিন।

গর্ভকালীন

গর্ভাবস্থার হরমোন ইনসুলিনকে বাধা দেয়।

শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়েদের।

ডায়েট কন্ট্রোল বা সাময়িকভাবে ইনসুলিন।

প্রি-ডায়াবেটিস

রক্তে সুগারের মাত্রা বর্ডারলাইনে থাকা।

ঝুঁকিপূর্ণ লাইফস্টাইল যাদের।

নিয়মিত ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস (ওষুধ লাগে না)।

 

ডায়াবেটিস যে ধরনেরই হোক না কেন, সঠিক সময়ে রোগটি শনাক্ত করতে পারা এবং সচেতন হওয়াটাই আসল কথা। আপনার বা আপনার পরিবারের কারো রক্তে সুগারের মাত্রা কেমন আছে, তা জানতে প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার রক্তের একটি সাধারণ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

👁 ৭২

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ