একটি সন্তান আছে কিন্তু দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ হচ্ছে না? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার
Share on

একটি সন্তান আছে কিন্তু দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ হচ্ছে না? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে একটি সুস্থ সন্তান থাকলে ধরেই নেওয়া হয় যে দ্বিতীয় গর্ভধারণও ঠিক ততটাই সহজ হবে। কিন্তু দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের আশায় যখন মাসের পর এমনকি বছর কেটে যায় কিন্তু কোন সাফল্য আসে না তখন হতাশা, উদ্বেগ যেন চেপে বসে। একে চিকিৎসাগত ভাবে সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি বলা হয়, যা খুবই সাধারণ একটা সমস্যা এবং সহজেই চিকিৎসা যোগ্য। এটি কেন ঘটে সেটা খুঁজে বের করাটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

 

সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি বা গৌণ বন্ধ্যাত্ব কি?

পূর্বে এক বা একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর, গর্ভ নিরোধক ব্যবহার না করে প্রায় এক বছর (নারীদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ৬ মাস) চেষ্টা করার পরেও গর্ভধারণ করতে না পারা বা গর্ভাবস্থা পূর্ণকাল পর্যন্ত বহন করতে না পারা কে সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি বলা হয়। এই সমস্যা স্বামী বা স্ত্রী যে কারো হতে পারে, এমনকি যদি প্রথমবারের গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নাও থেকে থাকে।

অনেক দম্পতিই ভুলবশত মনে করেন যে, যেহেতু তারা একবার স্বাভাবিক ভাবেই গর্ভধারণ করেছেন, তাই তাদের ক্ষেত্রে কোন ফার্টিলিটি সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবে বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থা বা প্রসবের জটিলতা, বা নতুন কোন লাইফস্টাইল শুরু করা যা আগে ছিলো না, এ সকল কিছুই সময়ের সাথে সাথে ফার্টিলিটি সমস্যা তৈরি করতে পারে।

 

১. বয়সজনিত প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস

দুটি গর্ভধারণের মধ্যে মাত্র তিন থেকে পাঁচ বছরের ব্যবধানের কারণেও ফার্টিলিটির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ডিম্বাণুর গুণগত মান স্বাভাবিক ভাবেই হ্রাস পায় এবং ৩৫ বছর বয়সের পর তা এই সমস্যা আরো বেশি ত্বরান্বিত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রেও বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শুক্রাণুর গুণমান ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে, তবে তা সাধারণত অপেক্ষাকৃত ধীর গতিতে ঘটে।

 

২. পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থা বা প্রসবজনিত জটিলতা

 

৩. নতুন বা ক্রমবর্ধমান প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা

 

৪. হরমোনের পরিবর্তন

প্রথম গর্ভাবস্থার পরে নতুন করে PCOS বা থায়রয়েডের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বা পূর্ব থেকেই থাকলে আরো খারাপের দিকে গড়ায়, যা Ovulation এ ব্যাঘাত ঘটায়। স্তন্যপানের সাথে জড়িত কিছু হরমোনের প্রভাবেও নিয়মিত ডিম্বোস্ফোটনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

 

৫. ওজনের পরিবর্তন

প্রথম গর্ভাবস্থার পর উল্লেখযোগ্য ভাবে ওজনের বৃদ্ধি বা হ্রাস নিয়মিত ডিম্বোস্ফোটনের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা দ্বিতীয়বার গর্ভধারণকে আরো জটিল করে তোলে।

 

৬. সময়ের সাথে সাথে পুরুষের মধ্যে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়

পুরুষদের ক্ষেত্রেও ফার্টিলিটি সবসময় সমান থাকে না। Varicocele, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ইনফেকশন বা লাইফস্টাইলের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, ধূমপান, মাদক, মদ্যপান, মানসিক চাপ ইত্যাদি বিষয় শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে, হয়তো যদিও প্রথমবারে তিনি কোন সমস্যা ছাড়াই বাবা হয়েছেন।

 

৭. অজ্ঞাত কারণে গৌণ বন্ধ্যাত্ব

অনেক ক্ষেত্রেই উভয় সঙ্গীর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেও দ্বিতীয় বার গর্ভধারণ না করার সুস্পষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

 

করনীয়: রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

আশার কথা হলো, সঠিক কারণটি খুঁজে পাওয়া গেলে সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি চিকিৎসা করা সহজ।

 

১. উভয় সঙ্গীর সম্পূর্ণ চেকআপ

প্রাইমারি ইনফার্টিলিটির মতোই এক্ষেত্রেও শুধুমাত্র নারীটিকে নয়, বরং উভয় সঙ্গীকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। টেস্ট গুলোর মধ্যে রয়েছে -

 

২. আভ্যন্তরিন সমস্যার চিকিৎসা

 

৩. জীবন যাপনের পরিবর্তন

 

৪. Assisted Representative Technologies (ART)

যেসব দম্পতির চিকিৎসা সত্ত্বেও স্বাভাবিক ভাবে গর্ভধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাদের জন্য Ovulation induction, IUI (Intrauterine insemination), IVF (In vitro fertilization) ইত্যাদি পদ্ধতি গুলো দ্বিতীয় বারের গর্ভধারণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি সমস্যায় পড়া দম্পতিরা এই পদ্ধতিতে সফলভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন।

 

৫. সময়মতো পরামর্শ নেয়া

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো খুব বেশি দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন বিশেষজ্ঞের কাছে থেকে পরামর্শ নেয়া। সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির ক্ষেত্রে অনেক সময়ই দম্পতিরা চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করেন যেহেতু পূর্বে হয়তো কোন সমস্যা ছাড়াই তারা সন্তান লাভ করতে পেরেছেন। কিন্তু যদি সত্যিই সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি দেখা দেয়, তাহলে তা সময়ের সাথে সাথে আরো বেশি জটিল হয়ে ওঠে।

 

সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটিতে প্রায়শই বিশেষ মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে একটা সন্তান থাকায় হয়তো অনেকেই তাদের বলে থাকেন, “আপনার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন”, অথবা অন্য সব চিরাচরিত বন্ধ্যা দম্পতিদের সাথে তাদের সমস্যা না মেলায় তারা এক ধরনের একাকীত্বে ভোগেন। এই অনূভুতি গুলো খুবই সাধারণ ও স্বাভাবিক। এসব ক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে কোন কাউন্সিলের সাথে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা।

 

উপসংহার

একটি সন্তান থাকলেই যে দ্বিতীয় বার গর্ভধারণ করা সহজ হবে, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বয়স বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি, পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থার জটিলতা, স্বামী বা স্ত্রী অথবা উভয়ের স্বাস্থ্যগত বা জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের ফলস্বরূপ সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটি বা গৌণ বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করেই কেবলমাত্র এই বিষয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

 

“এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত এবং এটি পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।”

👁 ১২

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ