আপার জিআই এন্ডোস্কোপি: প্রয়োজনীয় গাইডলাইন
Share on

আপার জিআই এন্ডোস্কোপি: প্রয়োজনীয় গাইডলাইন

এন্ডোস্কোপি নিয়ে অনেকের মনেই কিছুটা ভয় বা দ্বিধা থাকে। তবে বাস্তবে এটি পরিপাকতন্ত্রের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত নিরাপদ, কার্যকর এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পরীক্ষা।

এন্ডোস্কোপি কী?

এন্ডোস্কোপি হলো এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে একটি সরু, নমনীয় এবং ক্যামেরাযুক্ত টিউব মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে পরিপাকতন্ত্রের তিনটি প্রধান অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়:

বিশেষত্ব: এই পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক পরিপাকতন্ত্রের ভেতরের অংশের নিখুঁত বিবরণ পান এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা চলাকালীনই তাৎক্ষণিক কিছু চিকিৎসা দিতে পারেন।

কখন এই পরীক্ষা প্রয়োজন হয়?

সাধারণত নিচের লক্ষণ বা সমস্যাগুলো দেখা দিলে চিকিৎসক এন্ডোস্কোপির পরামর্শ দেন:

পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি

সঠিক ফলাফলের জন্য রোগীকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়:

পরীক্ষা চলাকালীন কী ঘটে?

এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে চিকিৎসা

এন্ডোস্কোপি শুধু রোগ নির্ণয়ই করে না, বরং এর মাধ্যমে সরাসরি বেশ কিছু চিকিৎসাও সম্ভব:

চিকিৎসার ধরন বিবরণ
রক্তক্ষরণ বন্ধ করা পরিপাকতন্ত্রের ভেতরের অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বন্ধ করা।
পলিপ অপসারণ কোনো ক্ষতিকর বা অণ্ডকোষীয় মাংসপিণ্ড (Polyp) অপসারণ করা।
ডাইলেটেশন সরু হয়ে যাওয়া খাদ্যনালী প্রসারিত করা।
ফরেন বডি রিমুভাল অসাবধানতাবশত গিলে ফেলা কোনো বাইরের বস্তু বের করা।

পরীক্ষার পরবর্তী অবস্থা ও করণীয়

পরীক্ষার পর সামান্য গলা ব্যথা, পেট ফাঁপা বা ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:

এটি কতটা নিরাপদ?

অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে এন্ডোস্কোপি সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি পরীক্ষা। এতে জটিলতার ঝুঁকি নেই বললেই চলে এবং অধিকাংশ রোগী পরীক্ষার পরপরই সুস্থভাবে বাসায় ফিরে যেতে পারেন। সঠিক সময়ে এন্ডোস্কোপি করলে আলসার বা ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব, যা দ্রুত আরোগ্য লাভে বড় ভূমিকা রাখে।

ডা: মো: মোবাসসিরুল ফেরদৌস
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি (আমেরিকা)
পরিপাকতন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিশেষজ্ঞ এবং থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট

এই পাতাটি ৪১বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ