Written by RajDoc Editorial Contributors
Reviewed by Dr. Md Mobussirul Ferdous১. ডায়রিয়া কী এবং কেন গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন?
ডায়রিয়া বলতে দিনে তিনবার বা তার বেশি পাতলা বা পানির মতো পায়খানা হওয়াকে বোঝায়। এটি শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যেতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়, তবে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বের হয়ে গেলে মারাত্মক পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) তৈরি হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জীবনহানির কারণও হতে পারে।
২. ডায়রিয়ার সাধারণ কারণ
ডায়রিয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এছাড়া ব্যাকটেরিয়াযুক্ত বা দূষিত খাবার ও পানি, খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning), পরজীবী সংক্রমণ, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, নির্দিষ্ট খাবার হজমে অসুবিধা এবং অন্ত্রের কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগও ডায়রিয়ার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৩. ডায়রিয়া হলে করণীয় ও খাদ্যাভ্যাস
ডায়রিয়া হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করা। এজন্য বারবার ওরাল স্যালাইন (ORS), বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য তরল পান করতে হবে। বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং যতটা সম্ভব স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করতে হবে। ভাত, খিচুড়ি, আলু, কলা, ওটমিল, স্যুপ, সেদ্ধ সবজি, টোস্ট বা ক্র্যাকার খাওয়া উপকারী। অন্যদিকে অপরিষ্কার বা রাস্তার খোলা খাবার, দূষিত পানি, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মসলাযুক্ত খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত।
৪. কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
পায়খানার সঙ্গে রক্ত আসা, উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, ২৪ ঘণ্টায় ছয়বারের বেশি পাতলা পায়খানা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা কিংবা তীব্র দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়াকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
৫. প্রতিরোধ ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
সব ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। বরং অধিকাংশ তীব্র ডায়রিয়া ভাইরাসজনিত হওয়ায় সঠিক তরল ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনাতেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবারের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা, ফলমূল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া, খাবার ভালোভাবে রান্না করা এবং সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা জরুরি। মনে রাখবেন, ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পানিশূন্যতা। তাই ডায়রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পর্যাপ্ত স্যালাইন ও তরল গ্রহণ করুন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডাঃ মোঃ মোবাসসিরুল ফেরদৌস
পরিপাকতন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিশেষজ্ঞ এবং থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট।
এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি(আমেরিকা)