Written by RajDoc Editorial Contributors
Reviewed by Dr. Md Mobussirul Ferdousএন্ডোস্কোপি নিয়ে অনেকের মনেই কিছুটা ভয় বা দ্বিধা থাকে। তবে বাস্তবে এটি পরিপাকতন্ত্রের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত নিরাপদ, কার্যকর এবং বহুল ব্যবহৃত একটি পরীক্ষা।
এন্ডোস্কোপি হলো এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে একটি সরু, নমনীয় এবং ক্যামেরাযুক্ত টিউব মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে পরিপাকতন্ত্রের তিনটি প্রধান অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়:
খাদ্যনালী (Esophagus)
পাকস্থলী (Stomach)
ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ (Duodenum)
বিশেষত্ব: এই পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসক পরিপাকতন্ত্রের ভেতরের অংশের নিখুঁত বিবরণ পান এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা চলাকালীনই তাৎক্ষণিক কিছু চিকিৎসা দিতে পারেন।
সাধারণত নিচের লক্ষণ বা সমস্যাগুলো দেখা দিলে চিকিৎসক এন্ডোস্কোপির পরামর্শ দেন:
দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা: ক্রনিক গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা বা এসিড রিফ্লাক্স।
অস্বস্তি: পেটের উপরিভাগে দীর্ঘদিনের ব্যথা বা বারবার বমি ভাব।
গিলতে সমস্যা: খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া বা গলায় আটকে থাকার অনুভূতি।
ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ: রক্তবমি, কালো পায়খানা কিংবা কারণহীন রক্তস্বল্পতা (Anemia)।
শনাক্তকরণ: পাকস্থলীর আলসার, পলিপ বা টিউমার সন্দেহ হলে।
ফলো-আপ: পূর্বের কোনো রোগের অগ্রগতি বা নিরাময়ের অবস্থা জানতে।
সঠিক ফলাফলের জন্য রোগীকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়:
উপবাস: পরীক্ষার আগে সাধারণত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সম্পূর্ণ খালি পেটে থাকতে হয়।
ওষুধের বিবরণ: নিয়মিত খেয়ে থাকেন এমন সব ওষুধের তালিকা চিকিৎসককে জানাতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Blood thinners) থাকলে বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন হয়।
সঙ্গী থাকা: পরীক্ষার সময় হালকা ঘুমের ওষুধ (Sedation) দেওয়া হতে পারে, তাই সাথে একজন দায়িত্বশীল স্বজন থাকা জরুরি।
রোগীকে সাধারণত বাম কাতে শোয়ানো হয় এবং দাঁত ও যন্ত্রের সুরক্ষায় মুখে একটি 'মাউথ গার্ড' দেওয়া হয়।
হালকা সেডেশনের কারণে রোগী সম্পূর্ণ স্বস্তিতে থাকেন এবং কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যথা অনুভব করেন না।
পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মাত্র ১০–১৫ মিনিট সময় লাগে।
প্রয়োজনে রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যথাহীনভাবে টিস্যুর নমুনা বা বায়োপসি (Biopsy) সংগ্রহ করা হতে পারে।
এন্ডোস্কোপি শুধু রোগ নির্ণয়ই করে না, বরং এর মাধ্যমে সরাসরি বেশ কিছু চিকিৎসাও সম্ভব:
| চিকিৎসার ধরন | বিবরণ |
| রক্তক্ষরণ বন্ধ করা | পরিপাকতন্ত্রের ভেতরের অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বন্ধ করা। |
| পলিপ অপসারণ | কোনো ক্ষতিকর বা অণ্ডকোষীয় মাংসপিণ্ড (Polyp) অপসারণ করা। |
| ডাইলেটেশন | সরু হয়ে যাওয়া খাদ্যনালী প্রসারিত করা। |
| ফরেন বডি রিমুভাল | অসাবধানতাবশত গিলে ফেলা কোনো বাইরের বস্তু বের করা। |
পরীক্ষার পর সামান্য গলা ব্যথা, পেট ফাঁপা বা ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:
তীব্র পেট ব্যথা বা পেট শক্ত হয়ে ফুলে যাওয়া।
জ্বর বা অনবরত রক্তবমি।
কালো বা রক্তযুক্ত পায়খানা এবং গিলতে তীব্র কষ্ট।
অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে এন্ডোস্কোপি সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি পরীক্ষা। এতে জটিলতার ঝুঁকি নেই বললেই চলে এবং অধিকাংশ রোগী পরীক্ষার পরপরই সুস্থভাবে বাসায় ফিরে যেতে পারেন। সঠিক সময়ে এন্ডোস্কোপি করলে আলসার বা ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব, যা দ্রুত আরোগ্য লাভে বড় ভূমিকা রাখে।
ডা: মো: মোবাসসিরুল ফেরদৌস
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি (আমেরিকা)
পরিপাকতন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিশেষজ্ঞ এবং থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট