শিশুদের হার্টে ছিদ্র: লক্ষণ ও চিকিৎসা
Share on

১৪-০৫-২০২৬

শিশুদের হার্টে ছিদ্র: লক্ষণ ও চিকিৎসা

শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি হাজার নবজাতকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ রোগের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা হলো হার্টে ছিদ্র বা হৃদপিণ্ডের কুঠুরির মাঝখানে অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হওয়া।

চিকিৎসকদের ভাষায়, মানুষের হৃদপিণ্ডকে চার কুঠুরির একটি দোতলা বাড়ির সঙ্গে তুলনা করা যায়। উপরের দুই কুঠুরির মাঝখানে ছিদ্র হলে তাকে বলা হয় ASD (Atrial Septal Defect) এবং নিচের দুই কুঠুরির মাঝখানে ছিদ্র হলে তাকে বলা হয় VSD (Ventricular Septal Defect)। এছাড়া জন্মের পরও কিছু স্বাভাবিক সংযোগ বন্ধ না হলে সেটিকে PDA (Patent Ductus Arteriosus) বলা হয়।

শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে— সায়ানোটিক ও অ্যাসায়ানোটিক। সায়ানোটিক হৃদরোগে শিশুর শরীর বা ঠোঁট নীলাভ হয়ে যায়, আর অ্যাসায়ানোটিক ক্ষেত্রে রঙের পরিবর্তন না হলেও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। এছাড়াও কিছু জটিল হৃদরোগ রয়েছে, যেগুলোকে কমপ্লেক্স কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ বলা হয়।

জন্মগত হৃদরোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে মায়ের গর্ভাবস্থায় রুবেলা ভাইরাস সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি, কিছু ওষুধ সেবন, বয়স বেশি হওয়ার পর গর্ভধারণ, টর্চ ইনফেকশন এবং জেনেটিক কারণগুলো ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিবারে আগে কারও জন্মগত হৃদরোগ থাকলেও পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়।

শিশুর হার্টে সমস্যা থাকলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—

কিছু শিশুতে সমস্যা খুব হালকা হওয়ায় অনেক বছর পর্যন্ত ধরা পড়ে না। আবার কিছু জটিল ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই উপসর্গ দেখা দেয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে শিশুর শারীরিক পরীক্ষা করেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে, ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম করা হয়। ইকো পরীক্ষার মাধ্যমেই সাধারণত নিশ্চিতভাবে হার্টের ছিদ্র বা অন্য জটিলতা নির্ণয় করা সম্ভব হয়।

সব ধরনের হার্টের ছিদ্র সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিছু ছোট ছিদ্র সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার মাঝারি বা বড় ছিদ্রের ক্ষেত্রে ওষুধ, ডিভাইস ক্লোজার বা ওপেন হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই এসব চিকিৎসা সফলভাবে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ শিশু স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। তাই শিশুর বারবার শ্বাসকষ্ট, ওজন না বাড়া বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলোআপ, পুষ্টিকর খাবার, ডেন্টাল হাইজিন এবং স্বাভাবিক খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা বাড়লে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

 

ডা: তানিয়া আক্তার জাহান
এমবিবিএস(রামেক),ডিসিএইচ(বিএমইউ)
শিশু হৃদরোগ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত(NICVD,Dhaka)
নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ,
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, রাজশাহী।



এই পাতাটি ১৬বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ