রাজডক - Rajdoc
Banolata-2023-03-09.gif
RR Properties

স্ট্রোক এর খুঁটিনাটি
Share on

১৮-১০-২০২১

স্ট্রোক এর খুঁটিনাটি

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৃত্যুর কারন স্ট্রোক। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১৫ মিলিয়ন মানুষ স্ট্রোকের শিকার হয়। এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন মারা যায় এবং আরও ৫ মিলিয়ন স্থায়ীভাবে অক্ষম বা প্যারালাইসিস এর সম্মক্ষিন হয়।উচ্চ রক্তচাপ বিশ্বব্যাপী ১২..৭মিলিয়নেরও বেশি স্ট্রোকে অবদান রাখে।
ইউরোপে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৫০০০০ জন স্ট্রোকে মারা যায়। উন্নত দেশগুলিতে রক্তচাপ হ্রাস এবং ধূমপান হ্রাস করার প্রচেষ্টার কারণে স্ট্রোকের ঘটনা হ্রাস পাচ্ছে। তবে জনসংখ্যার বৃদ্ধির কারণে স্ট্রোকের সামগ্রিক হার বেশি রয়েছে।উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্ট্রোকের হার বেরেই চলেছে...।

স্ট্রোকের সময় এর প্রতিটা মিনিট গণনা যোগ্য! দ্রুত চিকিৎসা মস্তিষ্কের ক্ষতি কমিয়ে দিতে পারে, যা রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাচাতে পারে। স্ট্রোক এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর ৩ ঘন্টার মধ্যে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলে কোন রকম ক্ষতি ছাড়া দ্রুত রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব। আমরা স্ট্রোককে চিহ্নিত করার জন্য সহজ একটি উপায় অবলম্বন করতে পারি,

F—Face: রোগীকে হাসতে বলুন এবং লক্ষ্য করুন মুখের একপাশ কি ঝুলে আছে?
A—Arms: রোগীকে উভয় বাহু বাড়াতে বলুন। একটি বাহু কি নিচের দিকে সরে যাচ্ছে?
S—Speech: রোগীকে একটি সাধারণ বাক্যাংশ পুনরাবৃত্তি করতে বলুন। বক্তৃতা কি অস্পষ্ট নাকি অদ্ভুত?
T—Time: আপনি যদি এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনওটি দেখতে পান তবে দ্রুত চিকিৎসক এর শরণাপন্ন হন।

যদি আপনার লক্ষণগুলি কয়েক মিনিটের পরে চলে যায়, তাহলে আপনার একটি ক্ষণস্থায়ী ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হতে পারে। যদিও সংক্ষিপ্ত, একটি (টিআইএ)একটি গুরুতর অবস্থার একটি চিহ্ন যা চিকিৎসা সহায়তা ছাড়া চলে যাবে না। দুর্ভাগ্যবশত, অনেকেই (টিআইএ)পরিষ্কার হয়ে গেলে, তাদের অবহেলা করে।
কিন্তু (টিআইএ)দিকে মনোযোগ দিলে এটি আপনার জীবন বাঁচাতে পারে।

স্ট্রোক কী?

স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ। সেই রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ।
অতএব স্ট্রোক দু’ধরনের-
১. রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। একে বলে হেমোরেজিক স্ট্রোক।
২. রক্তনালি ব্লক হয়ে গিয়ে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না যাওয়া এবং ওই অংশের শুকিয়ে যাওয়া। একে বলে ইস্কেমিক স্ট্রোক।

কেন স্ট্রোক হয়?

সাধারণত কিছু ক্ষেত্রে অনেকদিন ধরে ধীরে ধীরে বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই-প্রেসার, হাই-কোলেস্টেরল, ধূমপান, পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস, হার্টের অসুখ যেমন- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তজমাট বাঁধা অসুখ, ক্যান্সার ইত্যাদি আরও অনেক কারণ রয়েছে স্ট্রোকের। আবার অনেক সময় কোনো পূর্ব রোগ ছাড়াও হঠাৎ করেই হতে পারে স্ট্রোক। এক্ষেত্রে হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া, জন্মগত রক্তনালির গঠনগত সমস্যা, জন্মগত এনজাইমের সমস্যা, মেটাবলিক সমস্যা ইত্যাদি রয়েছে। তাই শুধু বয়স্কদের নয়, একেবারে তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোক হতে দেখা যায়।

স্ট্রোকের লক্ষণ কী?

সবসময় সবধরনের স্ট্রোকের একই রকম লক্ষণ হয় না। কী ধরনের স্ট্রোক, কী কারণে হল, মস্তিষ্কের কোন অংশে হল তার ওপর ভিত্তি করে লক্ষণও হতে পারে ভিন্ন। মুখ, বাহু বা পায়ে হঠাৎ অসাড়তা বা দুর্বলতা, বিশেষ করে শরীরের একপাশে। হঠাৎ বিভ্রান্তি, কথা বলতে সমস্যা, বা বক্তৃতা বুঝতে অসুবিধা।এক বা দুই চোখে হঠাৎ দেখা সমস্যা।হঠাৎ হাঁটতে সমস্যা, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো বা সমন্বয়ের অভাব।হঠাৎ গুরুতর মাথাব্যথা যার কোনও কারণ নেই।হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ায়ও যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনই শরীরের কোনো অংশ ধীরে ধীরে দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, মুখ একদিকে বাঁকিয়ে যাওয়া, মুখ থেকে খাবার ও পানি গড়িয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন- চিনতে না পারা, অপ্রাসঙ্গিক বা আজেবাজে কথা বলা, অকারণে বিরক্ত হয়ে হইচই করা, একদম চুপচাপ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলো হওয়া মানেই যে স্ট্রোক- এমনটি নয়। আরও অনেক কারণেই এমন হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্ট্রোক হলে কী করণীয়?

পরিবারের কারো এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ভয় ও উদ্বিগ্ন লাগাটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আপনার প্রথম ও প্রধান করণীয় রোগীকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাম্বুলেন্স ডাকা এবং হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা। কোনো ধরনের ওষুধপত্র নিজ থেকে দিবেন না। কারণ স্ট্রোকটি হেমোরেজিক না ইস্কেমিক আপনি জানেন না, ওষুধ প্রদানে উল্টা তার ক্ষতি হতে পারে। মুখে কিছু খাওয়াতে যাবেন না, এমনকি পানিও। এ খাবার ও পানি তার শ্বাসনালিতে গিয়ে আটকে যেতে পারে ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে অথবা ইনফেকশন করতে পারে, যা এ অবস্থায় তার জন্য খুবই ক্ষতিকর। আর ওই যে ভাইরাল পোস্টে পড়েছেন সুই দিয়ে আঙ্গুল ফুটো করে দেয়া- সেটি ভুলেও করবেন না।

এতে রক্তক্ষরণ থেকে রোগী আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে, ক্ষতের জায়গায় ইনফেকশন হয়ে রক্তে ছড়িয়ে সেপটিসেমিয়া হয়ে যেতে পারে এবং আমাদের শরীরের ডিফেন্স মেকানিজমে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে স্ট্রোকের ফলাফল আরও খারাপ হতে পারে।স্ট্রোকের চিকিৎসায় যেই হাড় ছিদ্র করে বারহোল সার্জারির কথা বলা হয়েছে, অনেকে এর সঙ্গে হাতে সুই ফোটানোকে গুলিয়ে ফেলেছে। বারহোল করে মস্তিষ্কের জমাটরক্ত সরানো হয়, যা মস্তিষ্কের একটি অংশে চাপ দিচ্ছে।হাত, পা, কান ফুটো করে কয়েক লিটার রক্ত বের করেও এ জমাটরক্ত কমানোর কোনো পথ নেই। যদি বের করতেই হয় তবে মাথার হাড়ই ফুটো করতে হবে এবং এ ডিসিশন একমাত্র আপনার চিকিৎসকই দিতে পারেন।

এই পাতাটি ৫০৬বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ





যোগাযোগ
প্যারামেডিকেল রোড
লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী
Email: info@rajdoc.com
a part of Rajshahi Hub