ওজন কমানোর জন্য বর্তমান সময়ে কিটো ডায়েট একটি বেশি জনপ্রিয় পদ্ধতি। অনেকে এই পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে ওজন কমিয়ে ফেলতে পেরেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটির প্রভাব খুব ইতিবাচক নয়। ভবিষ্যতে এর প্রভাবে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতে হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ওজন কমছে ঠিকই কিন্তু স্মরণ রাখা প্রয়োজন এটি কোনো ডায়েট পদ্ধতি নয় যা পরীক্ষামূলকভাবে ওজন কমাতে প্রয়োগ করা হয়। এপিলিপটিক সিজার, শিশুরা এক ধরনের খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে এই ডায়েট পদ্ধতি রোগীদের দেওয়া হতো। বর্তমানে ওষুধ আবিষ্কারের পর এই ডায়েট বিশেষজ্ঞগণ অনুসরণ করতে নিষেধ করেন। এই ডায়েট বডি বিল্ডার বা খেলোয়াড়দের জন্য তো নয়ই, সাধারণ মানুষের জন্যও নয়। আসুন! এবার জেনে নিই কিটো ডায়েট কিভাবে কাজ করে, এর ফলাফল এবং এর উপকারিতা ও জটিলতাগুলো কি কি?
কিটো ডায়েট কিভাবে কাজ করে?
কিটো ডায়েট, ডায়েট প্রক্রিয়ার একটি রূপ যেখানে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় পরিহার করে আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য বেশি পরিমাণে খেতে বলা হয়। একটি আদর্শ কিটো ডায়েট প্রক্রিয়ায় খাদ্য উপাদানে ৬০% ফ্যাট, ৩৫% প্রোটিন ও ৫% কার্বোহাইড্রেট থাকে। এই ডায়েটে শরীর তার প্রয়োজনীয় শক্তি চর্বি জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করে।
কিটো ডায়েটের ফলাফল- আমাদের মস্তিষ্ক শুধুমাত্র গ্লুকোজ থেকেই শক্তি পায়। কিটো ডায়েট পালনের প্রথম পর্যায়ে খাদ্য থেকে গ্লুকোজ না পেয়ে মস্তিষ্ক যকৃত এবং মাংসপেশির সঞ্চিত গ্লুকোজ আহরণ করে। ৩-৪ দিনের মধ্যে সঞ্চিত গ্লুকোজ শেষ হয়ে গেলে ইনসুলিন লেভেল কমে যায়। দেহ সম্পূর্ণরূপে চর্বির উপর নির্ভর হয়ে পড়ে। যকৃত চর্বি থেকে কিটোন বডি উৎপাদন করতে থাকে যা গ্লুকোজের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।
জটিলতা-
১) দীর্ঘমেয়াদে কিটো ডায়েটের ফলে কিটোন বডির পরিমাণ বেড়ে গেলে কিটোএসিডোসিস হতে পারে, যা মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়।
২) সঠিক নিয়মে কিটো ডায়েট পালন না করলে শরীরে নানা রকম পুষ্টি উপাদানের অভাব দেখা দিতে পারে।
৩) অতিরিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে বিপাকে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৪) যকৃতে সমস্যা থাকলে অবনতি দেখা দিতে পারে।
৫) এছাড়াও কিটো ডায়েটের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বাতের সূচনা করতে পারে, ক্ষুধা, মাথাব্যাথা, খিটখিটে মেজাজ, মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যাবার মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
কিটো ডায়েট বন্ধু নাকি শত্রু?
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে প্রথমত কিটো ডায়েট না মানাই ভালো। তবে অতিরিক্ত চর্বি কমাতে এই ডায়েট ২-৩ সপ্তাহ করলে সমস্যা নেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই ডায়েট অনুসরণ করলে শরীরে এর খারাপ প্রভাব পড়ে। এই ডায়েট আসলে অনুসরণের উপযোগী কিনা তা জানতে আরো অনেক গবেষণার প্রয়োজন। তবে কেউ যদি এই ডায়েট অনুসরণ করতে চাই তাহলে পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করে, শারীরিক-মানসিক ভাবে প্রস্তুত হয়ে এটি অনুসরণ করতে পারেন।