রাজডক - Rajdoc
Banolata-2023-03-09.gif
RR Properties

কিটো ডায়েট ওজন কমাতে কতটা কার্যকর?
Share on

৩১-০৮-২০২০

কিটো ডায়েট ওজন কমাতে কতটা কার্যকর?

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য আদর্শ খাদ্যাভ্যাস হচ্ছে কিটো ডায়েট। শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় শরীরের ভেতরে অতিরিক্ত চর্বি জমে থাকার ফলে। ফলে কোষের চারিধারে চর্বি জমে থাকায় মোটা মানুষের শক্তি কমে যায়। এতে মোটা মানুষ চলাফেরায় কষ্ট অনুভব করে। এছাড়াও লিভার, ফুসফুস, হার্ট ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রোগের সৃষ্টি হয়। তাই শরীরের এই অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারলে চিরদিনের জন্য এসবের ওষুধ খাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কিটো ডায়েট পদ্ধতিতে শরীরের পুষ্টি উপাদান ঠিক রেখে চর্বি কমানো হয়। এছাড়াও সুস্থ থাকার আদর্শ পদ্ধতিও এটি। কিটো ডায়েট মেনে খাদ্য খেলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে এই ডায়েট যথাযথ কার্যকর। আসুন! কিভাবে কিটো ডায়েট করে আমরা শরীরের ওজন কমাতে পারি তা জানার চেষ্টা করি।

কিটো ডায়েটে কি কি খাওয়া যাবে না?
অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। তাই খাদ্যাভ্যাস এর পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরের ওজন কমাতে হবে। একটি আদর্শ কিটো ডায়েট প্রক্রিয়ায় খাদ্য উপাদানে ৬০% ফ্যাট, ৩৫% প্রোটিন ও ৫% কার্বোহাইড্রেট থাকে। ফলে কিটো ডায়েটে যে সমস্ত খাবার খাওয়া যাবে না সেগুলো হলো-শর্করা জাতীয় খাবার যেমন-চাল, আটা দিয়ে বানানো সকল খাদ্য, সকল প্রকার ডাল, মাটির নিচে হয় এমন সব সবজি, মিষ্টি জাতীয় সকল খাবার, সয়াবিন তেল, সূর্য মুখী তেল, রাইস ব্র্যান তেল ও সাধারণ তেল দিয়ে বানানো সকল খাবার, মিষ্টি জাতীয় সকল ফল, ট্যানারি বর্জ্র থেকে উৎপন্ন খাদ্য খাওয়ানো হয় এমন সব মুরগির মাংস ইত্যাদি।

কিটো ডায়েটে কি কি খাওয়া যাবে ?
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ থাকার জন্য কিটো ডায়েটে যে সমস্ত খাবার খাওয়া যাবে সেগুলো হলো-সবুজ শাক-সবজি, টক জাতীয় ফল, সকল প্রকার মাছ তবে তৈলাক্ত মাছ হলে আরো ভালো, ইঞ্জেকশনমুক্ত গরু ও খাসির মাংস, মুরগির ডিম, মাছের ডিম, সকল প্রকার বাদাম, ঘি, অর্গানিক বাটার, সরিষার তেল, এক্সট্রা ভার্জিন ওলিভয়েল, দুধ চিনি ছাড়া রং চা, লেবু, আদা ও সামান্য লবন মেশানো গ্রিণ টি ইত্যাদি।

খাবার কখন খেতে হবে?
কিটো ডায়েটে ওজন কমাতে হলে পেট ১৭-১৮ ঘন্টা খালি রাখতে হয়। মাত্র দুবার খাবার গ্রহণ করতে হবে। সকালের খাবার খেতে হবে ১২-১২ টার মধ্যে। আর রাতের খাবার খেতে হবে সন্ধ্যায়। এই ডায়েটে অতিরিক্ত চর্বি খাওয়ার ফলে ক্ষুধার অনুভূতি কমে যায়। ফলে ২৪ ঘন্টায় একবার খেলেও চলে। ক্ষুধার অনুভূতি কমে গেলে বুঝতে হবে চর্বি গলতে শুরু করেছে।

ব্যায়াম করতে হবে কি?
ব্যায়াম না করে খাবারে পরিবর্তন আনলে প্রথম কয়েকদিন ওজন কমলেও পরে আর কমে না। তাই কিটো ডায়েটে প্রতিদিন সকালে ১-১.৫ ঘন্টা হাটতে হবে। এছাড়াও খালি পেটে ব্যায়াম করলে চর্বি কমে। ব্যায়ামে এমন কিছু হরমোন নি:সৃত হয় যা শরীরকে সুস্থ ও চনমনে রাখে।

ঘুমের প্রয়োজন আছে কি?
কিটো ডায়েটে পরিমিত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। রাত ১১ টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। ঘুমানোর ৩/৪ ঘন্টা আগে খেতে হবে এবং ঘুম থেকে উঠে কিছু খাওয়া যাবে না। দেরি করে খেতে হবে। এভাবে শরীরের ওজন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।

পরিশেষে বলা যায়- কিটো ডায়েটে মূলত চর্বি গলিয়ে ওজন কমানো হয়। এই ডায়েটটি তাদের জন্য যারা অনেক বেশি ডেডিকেটেডভাবে ডায়েট করতে পারবে। অন্তত যারা ৩০ দিন এ ডায়েট করতে পারবেন না তারা এটি করবেন না। কেননা প্রথম ২ সপ্তাহে ৩/৪ কেজি ওজন কমিয়ে ফেললে আবার এটি ত্যাগ করে অন্য ডায়েটে গেলে পুনরায় ওজন বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। এছাড়াও অতিরিক্ত শর্করা ও চিনি খেলে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। আর কিটো ডায়েট সর্বোচ্চ তিন মাস করা যাবে, এর বেশি নয়।

এই পাতাটি ৬৮৬বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ





যোগাযোগ
প্যারামেডিকেল রোড
লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী
Email: info@rajdoc.com
a part of Rajshahi Hub