শিশুদের সুস্থ বেড়ে ওঠা: পুষ্টি, মানসিক বিকাশ ও সচেতনতা
Share on

শিশুদের সুস্থ বেড়ে ওঠা: পুষ্টি, মানসিক বিকাশ ও সচেতনতা

একটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পেছনে সঠিক পুষ্টি, উপযুক্ত পরিবেশ এবং অভিভাবকের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শিশুদের লালন-পালন করতে গিয়ে বাবা-মায়েরা হরেক রকম সমস্যার মুখোমুখি হন। শিশুর খাবারে অরুচি, অতিরিক্ত জেদ, প্রযুক্তির আসক্তি কিংবা বিভিন্ন মৌসুমী রোগব্যাধি নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তার অন্ত নেই। শিশুদের এই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর কারণ ও প্রতিকার জানা থাকলে একটি শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখা সম্ভব।

শিশুর পুষ্টি খাবারের পরিবেশ

শিশুদের খাবারে অরুচি বা খেতে না চাওয়ার সমস্যাটি অত্যন্ত সাধারণ। অনেক সময়ই অভিভাবকরা এর পেছনের মূল কারণটি ধরতে পারেন না।

সতর্কতা (জাঙ্ক ফুড লিচু): চিপস, চকলেট, কোল্ড ড্রিংকসের মতো জাঙ্ক ফুডে থাকা কৃত্রিম রঙ ও টেস্টিং সল্ট শিশুদের মেজাজ খিটখিটে করে, অ্যাসিডিটি বাড়ায় এবং পুষ্টির অভাব ঘটায়। এছাড়া গ্রীষ্মকালে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে লিচু খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ এবং খিঁচুনি হতে পারে; বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শিশুর ওজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

শিশুর সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি পরিমাপের অন্যতম হাতিয়ার হলো তার ওজন। তবে কম বা বেশি ওজনের ক্ষেত্রে বয়স ও শিশুর চঞ্চলতার বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।

মানসিক বিকাশ: জেদ স্ক্রিন টাইম মহামারী

আজকের দিনে শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্যতম বড় অন্তরায় হলো অতিরিক্ত জেদ এবং মোবাইল বা স্ক্রিন আসক্তি।

শিশুর ঘুমের রুটিন বিপৎকালীন লক্ষণ

একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক রিচার্জের জন্য সঠিক পরিমাণে ঘুম অপরিহার্য। বয়স অনুযায়ী শিশুদের ঘুমের চাহিদা ভিন্ন হয়:

কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে? শিশুর অসুস্থতায় অনেক সময় অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী কিছু সুনির্দিষ্ট ‘বিপজ্জনক লক্ষণ’ দেখা দিলে কোনো রকম দেরি না করে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। লক্ষণগুলো হলো: ১. অতিরিক্ত উচ্চ মাত্রার জ্বর। ২. কাশির সাথে তীব্র শ্বাসকষ্ট বা বুক দেবে যাওয়া। ৩. একদমই খেতে না পারা বা অতিরিক্ত বমি হওয়া। ৪. অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হওয়া। ৫. শিশু অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি হওয়া।

প্রচলিত কুসংস্কার সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি

সমাজ থেকে এখনো টিকাদান সংক্রান্ত কিছু অন্ধবিশ্বাস দূর করা সম্ভব হয়নি। অনেকে মনে করেন টিকা দিলে শিশু বিকলাঙ্গ হবে বা ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানে সমস্যা হবে—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণা। এই সমস্ত ভুল ধারণার কারণেই সম্প্রতি সমাজে হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বা epidemic আবার বাড়ছে।

বর্তমানে শিশুদের মাঝে হাম, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গু, চিকেন পক্স এবং জন্মগত হৃদরোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। হামের হাত থেকে বাঁচতে সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন দেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে (আলাদা) রাখা জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ঘরবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রেখে মশা নির্মূল করতে হবে এবং যেকোনো ভাইরাসজনিত রোগে শিশুর শরীরে যেন পানির ঘাটতি না হয় (হাইড্রেশন মেইনটেইন), সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের একটি সুন্দর ও সুস্থ শৈশব উপহার দেওয়া প্রতিটি বাবা-মায়ের দায়িত্ব। খাবার নিয়ে জোরজবরি না করা, প্রযুক্তির স্ক্রিন থেকে দূরে রেখে খেলার মাঠে ফিরিয়ে নেওয়া, সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া এবং যেকোনো শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমেই আমরা একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি।

ভিডিও লিংক https://www.youtube.com/watch?v=aDBaeW64-z8

👁 ৫১

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ