বিয়ের কতদিন পর সন্তান না হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন?
Share on

বিয়ের কতদিন পর সন্তান না হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন?

বিয়ের পর অধিকাংশ দম্পতিই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন। কেউ কেউ খুব দ্রুতই গর্ভধারণ করতে পারেন, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে সময় লাগে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ দ্রুত উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়ে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ধারণ করেন। কোনটি সঠিক, আর ঠিক কত দিন পরে বা কোন পরিস্থিতিতে ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী হয়ে পড়ে আসুন জেনে নেই মূল ৭ টি পয়েন্টে।   

যেই টি লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন আপনার এখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত            

১. আপনি ১২+ মাস ধরে নিয়মিত অনিয়ন্ত্রিত শারীরিক সম্পর্কের পরও যদি গর্ভধারণ করতে না পারেন

সাধারণত একটি দম্পতির গর্ভধারণ করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগে। যদি আপনার বয়স ৩৫ বছরের কম হয় এবং আপনি ১২ মাস ধরে অরক্ষিত যৌন মিলন (কোনো ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছাড়া যৌন মিলন) করে থাকেন, কিন্তু গর্ভধারণ করতে সক্ষম না হন, তাহলে আপনার একজন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

২. আপনার বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয়

নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুনমান কমতে থাকে। তাই –

যদি আপনার বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হয়ে থাকে এবং আপনি যদি ৬ মাসের বেশি সময় ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, আপনার একজন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

আপনার বয়স যদি ৪০ বছর বা তার বেশি হয় তাহলে আপনি আক্ষরিক অর্থেই ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের  পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন। তাই যদি এই বয়সে আপনি সন্তান নিতে আগ্রহী হন, সময় নষ্ট না করে অতিসত্তর একজন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। এই বয়সে গর্ভধারণে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

৩. যদি আপনার টি বা তারও বেশি গর্ভপাত হয়ে থাকে

সাধারনত গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহের মধ্যে যদি গর্ভ নষ্ট হয় তাকে গর্ভপাত বা Miscarriage বলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ডিম্বাণু বা শুক্রাণুতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ভুল থাকার কারণে গর্ভপাত ঘটে, ফলে নিষিক্ত ডিম্বাণুটি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে না। এছাড়াও, ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশের সমস্যার কারণেও গর্ভপাত হতে পারে; যেমন, যদি ডিম্বাণুটি জরায়ুতে সঠিকভাবে প্রতিস্থাপিত না হয় অথবা এর গঠনগত ত্রুটি থাকে।

আপনার যদি দুই বা ততোধিকবার গর্ভপাত হয়ে থাকে, তবে গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় আপনার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করার কথা বিবেচনা করা উচিত। যদি এই গর্ভপাতগুলোর পেছনে কোনো বড় শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে সে সম্পর্কে আপনার সচেতন থাকা প্রয়োজন।

৪. যদি পুরুষ সঙ্গীর লিঙ্গথানে ও তা বজায় রাখতে সমস্যা হয়

পুরুষ প্রজননতন্ত্রের বিশেষজ্ঞরা ইউরোলজিস্ট বা অ্যান্ড্রোলজিস্ট নামে পরিচিত। তাঁরা পুরুষ সঙ্গীর এই সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে পেতে আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।

৫. আপনার যদি অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত রক্তপাত, অথবা একদমই মাসিক না হয়

নিচে উল্লেখিত এই লক্ষণগুলোর যেকোনোটি বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত সমস্যার কারণে হতে পারে:

- মাসিক একদমই না হওয়াঃ সম্ভাবনা আছে আপনার ওভুলেশান হয় না।

- অনিয়মিত মাসিকঃ সম্ভবত আপনার মস্তিষ্ক ভুল হরমোন সংকেত পাঠাচ্ছে, অথবা এটি ডিম্বস্ফোটনজনিত  কোনো সমস্যার কারণেও হতে পারে।

- দুইটি মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত হওয়াঃ মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে বা সহবাসের পরে রক্তপাত জরায়ুর পলিপ বা ফাইব্রয়েড, অথবা জরায়ুমুখের ক্ষতের কারণে হতে পারে।

- মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতঃ যদি আপনার সাত দিনের বেশি রক্তপাত হয়, বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রতি ঘণ্টায় একাধিক প্যাড বা ট্যাম্পন ব্যবহার করতে হয়, অথবা সিকি আকারের চেয়ে বড় রক্তের জমাট বাঁধা অংশ বের হয়, তাহলে আপনার মাসিক অস্বাভাবিকভাবে বেশি হচ্ছে। এটি জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কোনো অস্বাভাবিকতার কারণে হতে পারে। আমরা আপনাকে আপনার ডাক্তারের সাথে দেখা করার জন্য দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি।

৬.  যদি আপনার অথবা আপনার পার্টনারের যৌনবাহিত সংক্রমণের থাকেঃ  

যৌনবাহিত সংক্রমণ  যা পূর্বে “যৌনবাহিত রোগ” নামে পরিচিত ছিল, সেটা যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ছড়ায়। এর ফলে ব্যথা ও ইনফেকশন হতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে, এটি ফ্যালোপিয়ান টিউবে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, যা ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিলনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে, এটি বারবার সংক্রমণের কারণ হতে পারে, যা শুক্রাণুর গতিশীলতা (Sperm mobility), কার্যকারিতা এবং শুক্রাণুর সংখ্যাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৭. আপনার যদি কোন দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থেকে থাকে

আপনার যদি আগে থেকেই কোন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা কোন শারীরিক জটিলতা থেকে থাকে তবে স্বাস্থ্যখাতের প্রক্রিয়া ও নিয়ম কানুন সম্পর্কে নিশ্চয়ই অবগত আছেন। Infertility বা বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো ভিন্ন কিছু নয়। আপনার যদি নিম্নোক্ত স্বাস্থ্য জটিলতাগুলো থেকে থাকে তাহলে আপনার অবশ্যই একজন ফারটিলিটি স্পেশালিষ্টকে দেখানো উচিৎ হবে –

* ডায়াবেটিস

* বংশগত রোগ

* হৃদরোগ

* উচ্চ রক্তচাপ

* কিডনি রোগ

* থাইরয়েডের সমস্যা

আপনার যদি ক্যান্সার হয়ে থাকে (তার জন্য যদি আপনাকে কেমোথেরাপি চিকিৎসা নিতে হয়) অথবা আপনার মায়ের যদি অকাল মেনোপজ হয়ে থাকে, তাহলেও আপনি একজন ফারটিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে চাইতে পারেন।

যদিও আপনার কাছে এই প্রক্রিয়াটি হয়তো বেশ কঠিন ও জটিল মনে হতে পারে, তবুও অনেক যত্নশীল চিকিৎসক আছেন যারা আপনাকে এটি সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে সাহায্য করবেন। উপরোক্ত কারণগুলোর কোনোটির সাথে যদি আপনার মিল থাকে, তবে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করে আপনি ফারটিলিটি সম্পর্কিত আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে পারেন।

পরিশেষে বলা যায়, গর্ভধারণে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক, তবে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অপেক্ষা করা উচিত নয়। বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ভিত্তিতে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত কারণ শনাক্ত করা যাবে, তত দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।   

এই পাতাটি ৭বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ