বাবা মা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, অথচ কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি যেন আসছেই না! হয়তো ভাবছেন আদৌও সন্তানের মুখ দেখতে পারবেন কিনা!
কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আসুন অল্প কথায় জেনে নেই বাচ্চা হতে সমস্যা বা বন্ধ্যাত্বের কারণ গুলো কী কী।
এছাড়াও জেনে নেই প্রাথমিকভাবে বন্ধ্যাত্বের কোন কোন লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় এবং ঠিক কখন ডাক্তার দেখানো অত্যাবশ্যক।
বন্ধ্যাত্ব কি?
বন্ধ্যাত্ব হলো এমন একটি অবস্থা যখন নিয়মিত ও অ-সুরক্ষিত (Unprotected) দাম্পত্য সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (বয়স অনুযায়ী ৬ মাস বা ১ বছর) গর্ভধারণ করতে না পারা।
সাধারণভাবে:
এটিকে বন্ধ্যাত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বন্ধ্যাত্ব মানেই “বাঁজা (Sterile/ Barren) বা কোনদিনও সন্তান লাভ করতে পারবেন না বিষয়টা এমন নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহায়তায় অথবা সহায়তা ছাড়াও এসব দম্পতিরা মা-বাবা হতে পারেন।
বন্ধ্যাত্ব কেন হয়?
নারী পুরুষ উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। বন্ধ্যা দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ২০% এর ক্ষেত্রে উভয় পার্টনারের সমস্যা পাওয়া যায়। আবার প্রায় ১৫% দম্পতিদের মেডিকেল টেস্টেও কোন সমস্যা ধরা পড়েনা , একে বলা হয় অজ্ঞাত কারনজনিত বন্ধ্যাত্ব (Unexplained infertility).
নারীদের ক্ষেত্রে:
নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকচক্রে ও ডিম্বস্ফোটনে পরিবর্তন বন্ধ্যাত্বজনিত কোনো রোগের কারনে হতে পারে। নারীদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব যেসব কারনে হয় –
নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সাথে সাথে, বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সের পর, প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। ৪৫ বছর বয়সের পর গর্ভধারণ করা বিরল।
পুরুষদের ক্ষেত্রে:
পুরুষদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের লক্ষণগুলো সাধারনত অস্পষ্ট হতে পারে। কোনো পুরুষ সন্তান নেওয়ার চেষ্টা না করা পর্যন্ত এই লক্ষণগুলো তেমন একটা বোঝা যায় না। পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে কমন কারণ হলো শুক্রাণু সংক্রান্ত সমস্যা, যার মধ্যে রয়েছে:
আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো শুক্রাণু উৎপাদনের পরিমাণে সাময়িক হ্রাস পাওয়া। অণ্ডকোষে আঘাত লাগলে না অন্য কোন কারনে এমনটা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অণ্ডকোষ দীর্ঘক্ষণ ধরে অতিরিক্ত গরম থাকলে অথবা এমন কোনো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসলে বা এমন কোনো ওষুধ সেবন করলে যা শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
মদ্যপান বা ধূমপান করলে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে।
এছাড়াও ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কম থাকে।
বন্ধ্যাত্বের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো দীর্ঘসময় ধরে চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হওয়া। এছাড়াও -
নারীদের ক্ষেত্রে:
● অস্বাভাবিক মাসিক, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বা কম রক্তপাত হওয়া।
● অনিয়মিত মাসিক।
● মাসিক একদমই না হওয়া বা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
● মাসিকের সময় কোমর, তলপেটে তীব্র ব্যথা ও ক্র্যাম্পিং (Cramping) হওয়া।
কখনো কখনো নারীদের বন্ধ্যাত্ব হরমোনজনিত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে:
কখন ডাক্তার দেখানো উচিত:
আপনার বয়স যদি ৩৫ বছরের কম হয় এবং আপনি যদি এক বছর ধরে গর্ভধারণের চেষ্টা করে অথবা আপনার বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয় এবং আপনি ৬ মাস গর্ভধারণের চেষ্টা করেও সফল না হন, তবে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
গর্ভধারণে কেন সমস্যা হচ্ছে তা জানার জন্য ডাক্তার রক্ত, মূত্র এবং ইমেজিং পরীক্ষা (imaging test) করতে দিতে পারেন। পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা এবং শুক্রাণুর সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য শুক্রাণু বিশ্লেষণ (Sperm analysis) করতে হতে পারে।
এছাড়াও ডাক্তার আপনাকে একজন রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজিস্টের ( Reproductive endocrinologist) কাছে পাঠাতে পারেন। ইনি এমন একজন ডাক্তার যিনি বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ।
আপনাকে আপনার বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ এবং চিকিৎসার ইতিহাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। তাই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে, নিম্নলিখিত তথ্যগুলো লিখে নিন এবং আপনার পরবর্তী ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টে সাথে করে নিয়ে যান:
নিজের শরীরকে বোঝার চেষ্টা করুন। যখনই কোনো উপসর্গ লক্ষ্য করবেন, আপনার ডাক্তারকে জানান। বন্ধ্যাত্বের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, বন্ধ্যাত্ব একটি সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা, তবে, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যার কারন নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন গর্ভধারণ না হলে সংকোচ ঝেড়ে ফেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এই পাতাটি ১৭বার পড়া হয়েছে