শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর: লক্ষণ, প্রকারভেদ
Share on

শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর: লক্ষণ, প্রকারভেদ

বর্তমান সময়ে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। বড়দের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে তাদের শারীরিক জটিলতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সঠিক সময়ে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও এর তীব্রতা বুঝতে পারা এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হলে যেকোনো বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু হলেই আতঙ্কিত না হয়ে এর শ্রেণীবিভাগ ও বিপজ্জনক লক্ষণগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি।

ডেঙ্গু জ্বরের শ্রেণীবিভাগ (ক্যাটাগরি)

চিকিৎসা ও রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডেঙ্গু জ্বরকে প্রধানত তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে:

১. ক্যাটাগরি 'A' (ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু): এই ক্যাটাগরির রোগীদের শরীরে কোনো বিপজ্জনক লক্ষণ বা 'Warning sign' থাকে না। এদের সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয় না; চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে রেখেই সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

২. ক্যাটাগরি 'B': যেসকল শিশুর ডেঙ্গু জ্বরের সাথে এক বা একাধিক বিপজ্জনক লক্ষণ (যেমন- অনবরত বমি, তীব্র পেট ব্যথা, বা প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া) প্রকাশ পায়, তারা এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।

৩. ক্যাটাগরি 'C' (সিভিয়ার ডেঙ্গু): এটি ডেঙ্গুর সবচেয়ে মারাত্মক পর্যায়। এতে শিশু শকে (Shock) চলে যেতে পারে কিংবা তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন—ব্রেন, কিডনি, ফুসফুস ও হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'Expanded Dengue Syndrome' বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: ক্যাটাগরি 'B' এবং 'C' তে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুদের ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণসমূহ

শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলো বড়দের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন বা তীব্র হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ক্যাটাগরি 'A' রোগীর ক্ষেত্রে বাসায় করণীয় (চিকিৎসা ও পরিচর্যা)

যদি শিশু ক্যাটাগরি 'A' ভুক্ত হয়, তবে বাসায় নিচের নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:

ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে যা একদমই বর্জনীয়

ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক সময় সাধারণ ডেঙ্গুও প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। তাই নিচের বিষয়গুলো কঠোরভাবে বর্জন করতে হবে:

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও সিদ্ধান্ত

শিশুর জ্বর আসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক সময়ে রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি। সাধারণত জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে NS1 (এন্টিজেন) পরীক্ষা এবং জ্বর আসার ৭ দিন পার হলে IgM/IgG (এন্টিবডি) পরীক্ষা করার নিয়ম।

উপসংহার

শিশুদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণই সুস্থতার চাবিকাঠি। লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে কোনো ধরণের কবিরাজি বা হাতুড়ে চিকিৎসার আশ্রয় না নিয়ে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সচেতনতা, সঠিক পরিচর্যা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করার মাধ্যমেই শিশুকে ডেঙ্গুর হাত থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

ভিডিও লিংক https://www.youtube.com/watch?v=QpMaBlrqVfM

এই পাতাটি ৬৯বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ