Written by RajDoc Editorial Contributors
Reviewed by Dr. Alam Iftekhar Belayetশিশুদের যেকোনো অসুস্থতায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, তবে জ্বরের সাথে হঠাৎ খিঁচুনি শুরু হলে তা চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফিব্রাইল সিজার’ (Febrile Seizure)। এটি মূলত তীব্র জ্বরের কারণে শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রের সাময়িক উত্তেজনার ফলে ঘটে থাকে। যদিও এটি দেখতে খুবই ভয়ংকর মনে হয়, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এবং সচেতন থাকলে এই ঝুঁকি অনেকাংশেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: আলম ইফতেখার বেলায়েত এই সমস্যার লক্ষণ, জরুরি করণীয় ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
প্রধান লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য:
বয়সসীমা: সাধারণত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে এই সমস্যাটি বেশি দেখা দিতে পারে।
খিঁচুনির ধরন: এটি সাধারণত 'জেনারেলাইজড' বা পুরো শরীর জুড়ে হয়, কোনো নির্দিষ্ট হাত বা পায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
স্থায়িত্ব: এই ধরনের সাধারণ খিঁচুনি সাধারণত ১০ মিনিটের কম সময় স্থায়ী হয়।
পূর্ব লক্ষণ: খিঁচুনি শুরু হওয়ার আগে শিশুর সর্দি, কাশি বা ভাইরাসের কারণে তীব্র জ্বর হওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।
খিঁচুনি হলে করণীয় (জরুরি পদক্ষেপ):
১. অভিভাবকদের শান্ত থাকা: শিশুর খিঁচুনি দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সবার আগে নিজেকে শান্ত রাখতে হবে, কারণ আপনার আতঙ্ক শিশুর ক্ষতি করতে পারে। ২. পোশাক ঢিলেঢালা করা: শিশুর শরীরে অতিরিক্ত বা টাইট পোশাক থাকলে তা দ্রুত খুলে বা ঢিলেঢালা করে দিতে হবে যেন সে সহজে শ্বাস নিতে পারে। ৩. শরীর মোছানো (Tepid Sponging): কলের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে শিশুর পুরো শরীর ভালো করে মুছে দিতে হবে। (কোনোভাবেই অতিরিক্ত ঠান্ডা বা বরফ পানি ব্যবহার করা যাবে না)। ৪. সঠিক পজিশনে শোয়ানো: খিঁচুনি চলাকালীন শিশুকে চিত করে সোজা না শুইয়ে ডান বা বাম কাতে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। শিশুর গলা বা মাথা কিছুটা সোজা ও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে হবে যেন মুখের লালা বা বমি শ্বাসনালীতে আটকে না যায়।
প্রতিরোধ ও ওষুধপত্র:
খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে এবং তাপমাত্রা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ডায়াজেপাম (সিডিল) ট্যাবলেট সঠিক ডোজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
যেসব শিশুর একবার ফিব্রাইল সিজার হয়েছে, তাদের বয়স ৫ বছর হওয়া পর্যন্ত সামান্য জ্বর বা জ্বরের ভাব দেখলেই ঘরে বা ভ্রমণের সময় সাথে প্যারাসিটামল ও সিডিল ট্যাবলেট রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাপমতো খাওয়ানো উচিত। কারণ ঘন ঘন খিঁচুনি হলে মস্তিষ্কের নিউরন বা কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আশার কথা হলো, শতকরা ৯০ ভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই ৫ বছর বয়সের পর এই সমস্যাটি নিজে থেকেই পুরোপুরি ঠিক হয়ে যায়।
সতর্কবার্তা:
জ্বরের সাথে খিঁচুনি মানেই যে সেটি ফিব্রাইল সিজার তা নয়, এটি মারাত্মক রোগ যেমন— মস্তিষ্কের ইনফেকশন বা মেনিনজাইটিস এবং এনকেফালাইটিসের কারণেও হতে পারে। তাই খিঁচুনির সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কোনো ব্যতিক্রম দেখা গেলে (যেমন খিঁচুনি ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা শরীরের একপাশে হলে) অবহেলা না করে দ্রুত শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন করতে হবে।
ভিডিও লিংক www.youtube.com/watch?v=gdaKWYS_Jb0
এই পাতাটি ৬২বার পড়া হয়েছে