শিশুদের জ্বরের সাথে খিচুনী, কারন ও করণীয়
Share on

শিশুদের জ্বরের সাথে খিচুনী, কারন ও করণীয়

শিশুদের যেকোনো অসুস্থতায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, তবে জ্বরের সাথে হঠাৎ খিঁচুনি শুরু হলে তা চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফিব্রাইল সিজার’ (Febrile Seizure)। এটি মূলত তীব্র জ্বরের কারণে শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রের সাময়িক উত্তেজনার ফলে ঘটে থাকে। যদিও এটি দেখতে খুবই ভয়ংকর মনে হয়, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এবং সচেতন থাকলে এই ঝুঁকি অনেকাংশেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: আলম ইফতেখার বেলায়েত এই সমস্যার লক্ষণ, জরুরি করণীয় ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

প্রধান লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য:

খিঁচুনি হলে করণীয় (জরুরি পদক্ষেপ):

১. অভিভাবকদের শান্ত থাকা: শিশুর খিঁচুনি দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সবার আগে নিজেকে শান্ত রাখতে হবে, কারণ আপনার আতঙ্ক শিশুর ক্ষতি করতে পারে। ২. পোশাক ঢিলেঢালা করা: শিশুর শরীরে অতিরিক্ত বা টাইট পোশাক থাকলে তা দ্রুত খুলে বা ঢিলেঢালা করে দিতে হবে যেন সে সহজে শ্বাস নিতে পারে। ৩. শরীর মোছানো (Tepid Sponging): কলের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে শিশুর পুরো শরীর ভালো করে মুছে দিতে হবে। (কোনোভাবেই অতিরিক্ত ঠান্ডা বা বরফ পানি ব্যবহার করা যাবে না)। ৪. সঠিক পজিশনে শোয়ানো: খিঁচুনি চলাকালীন শিশুকে চিত করে সোজা না শুইয়ে ডান বা বাম কাতে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। শিশুর গলা বা মাথা কিছুটা সোজা ও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে হবে যেন মুখের লালা বা বমি শ্বাসনালীতে আটকে না যায়।

প্রতিরোধ ও ওষুধপত্র:

সতর্কবার্তা:

জ্বরের সাথে খিঁচুনি মানেই যে সেটি ফিব্রাইল সিজার তা নয়, এটি মারাত্মক রোগ যেমন— মস্তিষ্কের ইনফেকশন বা মেনিনজাইটিস এবং এনকেফালাইটিসের কারণেও হতে পারে। তাই খিঁচুনির সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কোনো ব্যতিক্রম দেখা গেলে (যেমন খিঁচুনি ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা শরীরের একপাশে হলে) অবহেলা না করে দ্রুত শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন করতে হবে।

ভিডিও লিংক www.youtube.com/watch?v=gdaKWYS_Jb0

এই পাতাটি ৬২বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ