ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS) হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি হজমতন্ত্রের সমস্যা। এতে সাধারণত পেট ব্যথা ও মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা যায়—যেমন ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা দুটোই।
প্রায় ১০–১৫% মানুষ IBS-এর লক্ষণ অনুভব করলেও খুব কম মানুষ চিকিৎসকের কাছে যান। বেশিরভাগই বিষয়টি অবহেলা করেন, যা পরে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কারণ হতে পারে।
IBS-এর নির্দিষ্ট একক কারণ নেই। বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণ একসাথে কাজ করে। যেমন—
তবে রাতে বারবার ডায়রিয়া হলে সেটি সাধারণত IBS-এর লক্ষণ নয়। এটি অন্য গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
IBS নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক পরীক্ষা নেই। চিকিৎসক সাধারণত রোগীর উপসর্গ বিশ্লেষণ করে এবং অন্য গুরুতর রোগ বাদ দিয়ে IBS নির্ণয় করেন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা কোলোনোস্কোপির পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
নিজের ট্রিগার চিনুন
কোন খাবার বা পরিস্থিতিতে সমস্যা বাড়ে তা লিখে রাখুন। এতে ট্রিগার শনাক্ত করা সহজ হয়।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ
ফাইবার গ্রহণে সতর্কতা
ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত ফাইবার অনেক সময় গ্যাস ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, কাউন্সেলিং বা CBT (Cognitive Behavioral Therapy) অনেক ক্ষেত্রে উপকার দেয়।
প্রয়োজনে ওষুধ
ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য আলাদা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে কম ডোজের অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টও দেওয়া হতে পারে।
IBS শুধু “সাধারণ গ্যাস্ট্রিক” নয়। এটি একটি gut-brain ও lifestyle সম্পর্কিত সমস্যা।
সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। কিন্তু অবহেলা করলে বছরের পর বছর ভোগান্তি হতে পারে। তাই শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডাঃ মোঃ মোবাসসিরুল ফেরদৌস
পরিপাকতন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিশেষজ্ঞ এবং থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট।
এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি(আমেরিকা)