আমাদের শরীরে ডায়াবেটিস আছে কি না, বা রক্তে সুগারের পরিমাণ কেমন—তা জানার জন্য আমরা অনেকেই নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করি। কিন্তু প্রতিদিনের সুগার টেস্ট কেবল ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তের চিত্রটাই দেখায়। আপনি ৩ মাস ধরে কেমন আছেন, তা জানতে হলে একটি বিশেষ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়, যার নাম HbA1c টেস্ট বা গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তা আগেভাগে শনাক্ত করার জন্য এই পরীক্ষাটিকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ধরা হয়। আসুন খুব সহজ ভাষায় এই টেস্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
HbA1c টেস্ট আসলে কী?
সহজ কথায়, HbA1c হলো এমন একটি রক্ত পরীক্ষা যা গত ২ থেকে ৩ মাসে আপনার রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) গড় মাত্রা কত ছিল তা জানিয়ে দেয়। এটি আপনার শরীরের সুগার নিয়ন্ত্রণের এক ধরনের "রিপোর্ট কার্ড"।
এটি কীভাবে কাজ করে?
আমাদের রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় 'হিমোগ্লোবিন' নামের একটি প্রোটিন থাকে। রক্তে যখন গ্লুকোজ বা চিনির পরিমাণ বাড়ে, তখন সেই চিনি হিমোগ্লোবিনের গায়ে আটকে যায় বা প্রলেপ তৈরি করে। লোহিত রক্তকণিকাগুলো সাধারণত ১২০ দিন বা প্রায় ৩ মাস বেঁচে থাকে। তাই এই পরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তাররা বুঝতে পারেন যে গত ৩ মাসে আপনার হিমোগ্লোবিনে কতটা চিনি জমা হয়েছিল।
HbA1c টেস্টের ফলাফলের সহজ হিসাব (চার্ট)
এই পরীক্ষার ফলাফল শতাংশ (%) হিসেবে আসে। নিচে একটি সাধারণ তালিকার মাধ্যমে এর মাত্রা বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
|
HbA1c এর মাত্রা |
এর মানে কী? |
গড় সুগারের পরিমাণ (অনুমিত) |
|
৫.৭% এর নিচে |
একদম স্বাভাবিক (Normal) |
১১৭ mg/dL এর নিচে |
|
৫.৭% থেকে ৬.৪% |
প্রি-ডায়াবেটিস (Prediabetes) |
১১৭ থেকে ১৩৭ mg/dL |
|
৬.৫% বা তার বেশি |
ডায়াবেটিস (Diabetes) |
১৪০ mg/dL বা তার বেশি |
নোট: যাদের ডায়াবেটিস অলরেডি আছে, তাদের জন্য ডাক্তাররা সাধারণত এই মাত্রা ৭% এর নিচে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কেন এই পরীক্ষাটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পদ্ধতি
অনেকেই জানতে চান এই পরীক্ষার জন্য বাড়তি কোনো প্রস্তুতির দরকার আছে কি না।
রিপোর্ট দেখে কী বুঝবেন? (কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর)
৭.৫% বা ৮% আসা মানে আপনার রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়ার লক্ষণ। এমন রিপোর্ট এলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা উচিত।
৫.৭% হলো প্রি-ডায়াবেটিসের শুরুর বর্ডার। এর মানে আপনার শরীর ডায়াবেটিসের দিকে ঝুঁকছে। এখন থেকেই সচেতন হলে, মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়া কমালে এবং নিয়মিত হাঁটলে ডায়াবেটিস পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
হ্যাঁ, কিছু কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে রিপোর্টে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। যেমন—শরীরে তীব্র রক্তস্বল্পতা (Anemia) থাকলে, গর্ভাবস্থায়, কিডনি বা লিভারের জটিল রোগ থাকলে কিংবা কিছু নির্দিষ্ট হরমোনের ওষুধের কারণে ফলাফল সামান্য এদিক-ওদিক হতে পারে। এমন কিছু থাকলে পরীক্ষা করার আগেই ডাক্তারকে জানানো ভালো।
কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে HbA1c এর মাত্রা কমাবেন?
যদি আপনার টেস্টের রেজাল্ট একটু বেশি আসে, তবে ঘাবড়ে না গিয়ে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন:
HbA1c পরীক্ষা অবহেলার বিষয় নয়। বছরে অন্তত একবার বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ৩ থেকে ৬ মাস পর পর এই পরীক্ষাটি করিয়ে নেওয়া আপনার সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য একটি দারুণ বিনিয়োগ হতে পারে।
👁 ৫১