কখন একজন ফিজিওথেরাপিস্টের শরণাপন্ন হবেন?
Share on

কখন একজন ফিজিওথেরাপিস্টের শরণাপন্ন হবেন?

দৈনন্দিন জীবনে ছোটখাটো শারীরিক ব্যথা বা ক্লান্তি আমাদের সবারই হতে পারে। তবে সব ব্যথার ধরন এক নয়, আর তাই কখন সাধারণ ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নেবেন আর কখন একজন পেশাদার ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে যাবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে এর একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া হলো:

 

হাড়, জয়েন্ট মাংসপেশির সমস্যায়

শরীরের মাংসপেশি, হাড় কিংবা জয়েন্ট রিলেটেড যেকোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা আপনার প্রথম পছন্দ বা 'ফার্স্ট চয়েস' হওয়া উচিত।

 

ঘাড়, পিঠ, কোমর কিংবা হাঁটুর ব্যথার মতো মাসকুলোস্কেলিটাল সমস্যায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান দেয়।

 

দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক পেইন দেখা দিলে

কোনো কারণে একদিন অতিরিক্ত কাজ করলে বা দীর্ঘ সময় একনাগাড়ে বসে থাকলে পিঠে কিংবা কোমরে সাময়িক ব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গরম শেক বা প্রাথমিক ব্যথানাশক ব্যবহারে কয়েকদিনের মধ্যে ব্যথা কমে গেলে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন পড়ে না।

 

কিন্তু কোনো ব্যথার এপিসোড যদি ৫ দিন, ৭ দিন কিংবা ১০ দিনেও ভালো না হয়, তবে বুঝতে হবে ব্যথাটি দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক হয়ে যাচ্ছে। এমন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি নেওয়া একেবারে বাধ্যতামূলক বা ম্যান্ডেটরি।

 

এছাড়া ছোটখাটো ব্যথাও যদি সাময়িকভাবে কমে আবার নিয়মিত বা ঘনঘন হতে থাকে, তবে তা শরীরের ভেতরে কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এই পরিস্থিতিতে অবহেলা না করে দ্রুত ফিজিওথেরাপিতে আসা উচিত।

 

নিউরোলজিক্যাল বা নার্ভ রিলেটেড জটিলতায়

যেকোনো ধরনের নার্ভের সমস্যা বা স্নায়ুবিক জটিলতায় ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করে।

 

বিশেষ করে স্ট্রোক প্যারালাইসিস এবং মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যায় রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

স্পোর্টস ইনজুরি খেলোয়াড়দের ফিটনেস পুনরুদ্ধারে

খেলোয়াড়দের স্পোর্টস রিলেটেড যেকোনো ইনজুরি বা আঘাতের সঠিক চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশনের (পুনর্বাসন) জন্য ফিজিওথেরাপি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর।

 

ইনজুরি হয়ে যাওয়ার পর তার ম্যানেজমেন্ট করা ছাড়াও, খেলোয়াড়রা যেন পুনরায় ইনজুরিতে না পড়েন সেজন্য আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক (Prevention) ব্যবস্থা নিতে এবং তাদের কাজ করার ক্ষমতা বা 'ফাংশনাল ক্যাপাসিটি' বজায় রাখতে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 

ব্যথার মূল উৎস নির্ণয় স্থায়ী সমাধানের জন্য

অনেক সময় আমরা ব্যথা হলে কেবল পেইন কিলার খেয়ে বা ব্যথার জায়গায় সাময়িক মেসেজ করে তা চেপে রাখার চেষ্টা করি, যা সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। এতে ব্যথার উপশম হলেও উৎপত্তিস্থল বা মূল সোর্সের চিকিৎসা হয় না।

 

উদাহরণস্বরূপ, কারো কোমরে পিএলআইডি (PLID) সমস্যার কারণে পায়ের নিচের অংশে (কাফ মাসেল) ব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু পায়ে মেসেজ করলে এই সমস্যা কখনোই দূর হবে না। তাই ব্যথার প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করতে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

ভিডিও লিংক https://www.youtube.com/watch?v=AsDyYYyhHeU

এই পাতাটি ৬১বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ