Written by RajDoc Editorial Contributors
Reviewed by Dr. Md Mobussirul Ferdousকোলন পলিপ হলো বৃহদান্ত্রের (Colon) ভেতরের আবরণে কোষের একধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, পলিপ মানেই ক্যান্সার। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও সূক্ষ্ম ও ভিন্ন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী
প্রাদুর্ভাব: প্রায় ৩০-৫০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কোলনে পলিপ থাকতে পারে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি: সব পলিপ ক্যান্সারে রূপ নেয় না।
সময়কাল: একটি ছোট পলিপ থেকে কোলন ক্যান্সার ছড়াতে সাধারণত ১০ বছর বা তারও বেশি সময় লাগে।
চিকিৎসা: আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অধিকাংশ পলিপই নিরাপদে এবং সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা সম্ভব।
কোন ধরনের পলিপ ঝুঁকিপূর্ণ?
সব পলিপের প্রকৃতি এক নয়। মূলত এদের কোষীয় গঠনের ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়:
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (Pre-cancerous): Adenomatous Polyp, Sessile Serrated Polyp এবং Traditional Serrated Adenoma—এই ধরনের পলিপগুলো ভবিষ্যতে কোলন ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কম ঝুঁকিপূর্ণ: Hyperplastic Polyp সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং এগুলো থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।
কোলন পলিপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকিসমূহ
কিছু নির্দিষ্ট জীবনযাত্রা এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য পলিপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:
উচ্চ চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত লাল মাংস (Red Meat) গ্রহণ।
খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত আঁশ বা ফাইবারের অভাব।
ধূমপান, মদ্যপান এবং স্থূলতা (Obesity)।
বয়স বৃদ্ধি এবং বংশগত বা পারিবারিক ইতিহাস।
বিশেষ সতর্কবার্তা: পরিবারের কোনো সদস্যের যদি অল্প বয়সে কোলন ক্যান্সার বা অ্যাডেনোমাটাস পলিপের ইতিহাস থাকে, তবে অন্য সদস্যদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের আগেই স্ক্রিনিং করানো জরুরি।
রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার
কোলোনোস্কপি (Colonoscopy): কোলন পলিপ শনাক্তকরণের জন্য কোলোনোস্কপি হলো সর্বোত্তম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এই পরীক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পরীক্ষা চলাকালীন যদি কোনো পলিপ দেখা যায়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ (Polypectomy) করা সম্ভব।
পলিপ অপসারণ কেন জরুরি?
কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সিংহভাগেরই সূত্রপাত হয় একটি 'প্রি-ক্যান্সারাস' বা প্রাক-ক্যান্সার পলিপ থেকে। তাই সঠিক সময়ে পলিপ অপসারণের মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ফলো-আপের গুরুত্ব
একবার পলিপ অপসারণ করা হলেও ভবিষ্যতে নতুন করে পলিপ তৈরির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই প্রথম পলিপের সংখ্যা, আকার এবং এর বায়োপসি বা হিস্টোপ্যাথলজি (Histopathology) রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট সময় পর পর পুনরায় কোলোনোস্কপি বা ফলো-আপের প্রয়োজন হয়।
প্রতিরোধে আমাদের করণীয়
একটি সুস্থ জীবনধারা কোলন পলিপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে দেয়: ১. প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। ২. শরীরের আদর্শ ওজন বজায় রাখুন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন। ৩. ধূমপান বর্জন করুন এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকুন। ৪. ৪৫ বছর বয়সের পর প্রতিটি সুস্থ মানুষেরই নিয়মিত কোলোরেক্টাল ক্যান্সার স্ক্রিনিং করা উচিত।
পরিশেষে: মনে রাখবেন, কোলন ক্যান্সার শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সারগুলোর মধ্যে অন্যতম। সঠিক সময়ে সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং দ্রুত পলিপ অপসারণের মাধ্যমে অসংখ্য জীবন বাঁচানো সম্ভব।
এই পাতাটি ৫৩বার পড়া হয়েছে