পেট ব্যথা (Abdominal Pain) খুবই সাধারণ একটি উপসর্গ। তবে সব পেট ব্যথা একই ধরনের নয়। কখনও এটি সাময়িক গ্যাস্ট্রিক বা খাবারের সমস্যার কারণে হতে পারে, আবার কখনও এটি গুরুতর ও জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ রোগের ইঙ্গিতও দিতে পারে। তাই ব্যথার ধরন, স্থান ও অন্যান্য উপসর্গ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
পেটের উপরের অংশ, নিচের অংশ বা একপাশে—যেকোনো স্থানে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা কখনও তীক্ষ্ণ (Sharp), কখনও মোচড়ানো বা ক্র্যাম্পের মতো (Crampy), আবার কখনও ভারী ও স্থায়ী (Dull Pain) অনুভূতি হতে পারে। সাধারণত গ্যাস্ট্রিক, গ্যাস্ট্রাইটিস, ভাইরাল ইনফেকশন বা খাবারের অসতর্কতার কারণে হালকা পেট ব্যথা দেখা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে পেট ব্যথা দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যেমন—অ্যাপেন্ডিসাইটিস, গলস্টোন, কিডনি স্টোন, প্যানক্রিয়াটাইটিস, অন্ত্রে সংক্রমণ বা অ্যাবসেস, আলসার ফেটে যাওয়া কিংবা অন্ত্রে ছিদ্র (Perforation)। নারীদের ক্ষেত্রে ovarian cyst rupture বা ectopic pregnancy থেকেও তীব্র পেট ব্যথা হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসা দাবি করে।
তীব্র ও অসহনীয় ব্যথা, বারবার বমি, জ্বর, পেট শক্ত হয়ে যাওয়া, খেতে না পারা, প্রস্রাব বা পায়খানায় সমস্যা কিংবা হঠাৎ ব্যথা শুরু হওয়া—এসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী Blood Test, Urine Test, Ultrasound, CT Scan বা X-ray করা হতে পারে।
পেট ব্যথার চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে কারণের উপর নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে স্যালাইন (IV Fluid), ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিকেই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়, আবার কিছু পরিস্থিতিতে অপারেশনও প্রয়োজন হতে পারে। তাই পেট ব্যথাকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন বা তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত হাসপাতালে গেলে জটিলতা ও ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ডাঃ মোঃ মোবাসসিরুল ফেরদৌস
পরিপাকতন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিশেষজ্ঞ এবং থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট।
এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি(আমেরিকা)