অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউর বা হঠাৎ লিভার বিকল হওয়া অত্যন্ত গুরুতর একটি চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থা (Medical Emergency)। এই অবস্থায় পূর্বে কোনো বড় রোগ ছিল না এমন ব্যক্তিরও মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লিভার তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর জন্য তাৎক্ষণিক ও নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
প্রধান কারণসমূহ:
ওষুধের অপব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় প্যারাসিটামল (Paracetamol/Acetaminophen) বা ব্যথানাশক সেবন।
ভাইরাল হেপাটাইটিস: বিশেষ করে হেপাটাইটিস এ, বি এবং ই ভাইরাসের সংক্রমণ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: অনিবন্ধিত বা নিম্নমানের হারবাল (ভেষজ) ওষুধ এবং নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব।
অন্যান্য কারণ: শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ (Sepsis) বা কোনো বিষাক্ত উপাদানের প্রবেশ।
গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ:
তীব্র শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি বোধ।
অনবরত বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং চরম ক্ষুধামন্দা।
চোখ ও শরীর অতিরিক্ত হলুদ হয়ে যাওয়া (তীব্র জন্ডিস)।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ব্যাহত হওয়া (যেমন: আচরণে পরিবর্তন, বিভ্রান্তি বা উল্টোপাল্টা বলা)।
অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়া।
জরুরি বিপদসংকেত (Red Alerts):
রোগীর মধ্যে কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত আইসিইউ (ICU) সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা (Diagnosis):
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver Function Test - LFT)
পিটি/আইএনআর (PT/INR - রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা)
আল্ট্রাসাউন্ড অথবা সিটি স্ক্যান (Ultrasound/CT Scan)
আইসিইউ মনিটরিং (ICU Monitoring)
চিকিৎসা ও প্রতিকার:
সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে অনেক রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তবে রোগটি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করলে জীবন রক্ষার্থে 'লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট' বা লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
সতর্কতা:
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কোনো ওষুধ সেবন করা, অতিরিক্ত ব্যথানাশক গ্রহণ এবং উৎসবিহীন বা অজানা হারবাল ওষুধ খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
মনে রাখবেন: সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্তই একটি মূল্যবান জীবন বাঁচাতে পারে
ডাঃ মোঃ মোবাসসিরুল ফেরদৌস
পরিপাকতন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিশেষজ্ঞ এবং থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট।
এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি(আমেরিকা)