রাজডক - Rajdoc


শীতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

শীতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

অনেকের শীত বা ঠান্ডার অনুভূতি বেশি। শীতে একেবারে জবুথবু হয়ে পড়েন। বিশেষ করে পরিবারের বয়োবৃদ্ধ ও ব্যথা-বেদনায় আক্রান্ত রোগীদের শীতের সময়টা বেশ ভোগায়। এ ছাড়া কম ওজনের মানুষ হলেও এমন ঘটতে পারে। বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) ১৮ দশমিক ৫ অথবা এর কম হলে শীত বেশি অনুভূত হতে পারে। কারণ, দেহে চর্বির পরিমাণ কম থাকলে গরম কম অনুভূত হয়। থায়রয়েড হরমোনের ঘাটতি থাকলে সব সময় শীত শীত লাগে। এর সঙ্গে হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীর শীতে অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক সমস্যা সৃষ্টি করে।

দেহে আয়রনের ঘাটতি থাকলে শীত ভাব বা কোল্ডনেস বাড়ে। কারণ, এই খনিজটি রক্তের লোহিত কণিকাকে পুরো দেহে অক্সিজেন বয়ে নিতে সহায়তা করে। বাত–ব্যথার কিছু রোগীর ঠান্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। একে বলা হয় ‘রেনডস’। এ কারণে শীতকালে হাত দুটি অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভূত হয়। রং পরিবর্তন হয়ে নীল হয়ে যায়।

ঘুমের অভাবেও দেহ শীতল মনে হয়। প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন বি১২ না গ্রহণ করলেও এমন হয়। গোটা দেহে অক্সিজেন প্রবাহে কাজ করে বি১২। এর অভাবে লোহিত রক্তকণিকার অভাব ঘটে। এতেও শীত ভাব বাড়ে।
ডায়াবেটিসের রোগীদের স্নায়ু আক্রান্ত হলে যে ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’ হয়, তাতে স্নায়ুতন্ত্রে একধরনের শিরশিরে অনুভূতি হয়; যার কারণে শীত বেশি লাগতে পারে। পা দুটি ঠান্ডা হয়ে থাকে বা জমে যায় বলে মনে হয়। পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণেও এমন মনে হয়।

শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে হাত–পা রেহাই পেতে কী করবেন
• খালি পায়ে থাকবেন না। বাড়িতেও হাঁটাহাঁটির সময় স্লিপার বা উষ্ণ স্যান্ডেল পরে থাকুন। শীতে পরার উপযোগী কিছু ঢাকা স্লিপার পাওয়া যায়।

• পায়ে উলের মোজা পরে থাকুন। গরমকালের জন্য সুতি মোজা ভালো। কারণ, এটি ভেন্টিলেশনে সাহায্য করে। কিন্তু শীতল আবহাওয়ায় উলের মোজা বেশি আরামদায়ক।

• দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হলে পা ঝুলিয়ে না বসে একটা টুল বা মোড়ার ওপর পা উঁচু করে বসুন আর গরম কাপড় দিয়ে পা ঢেকে নিন।

• রাতে পা ঠান্ডায় জমে যাওয়ার অনুভূতি হলে পাতলা মোজা পরেই ঘুমাতে যান।

• মাঝেমধ্যে হাঁটাহাঁটি করুন। সচল থাকুন। এতে পায়ে রক্ত চলাচল বাড়বে।

• ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রেখে উঠিয়ে দ্রুত তোয়ালে দিয়ে শুষ্ক করে নিন। এরপর ভালো ময়েশ্চারাইজার মাখুন।

• শীতে উষ্ণ থাকতে হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত গরম ব্যাগে পা না পুড়ে যায়, সেদিকে লক্ষ রাখবেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীরা বেশি সতর্ক থাকবেন। কারণ, তাঁদের পায়ের অনুভূতি কম।

• পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। গরম স্যুপ, আদা–চা, গ্রিন–টি ইত্যাদি উষ্ণ থাকতে সাহায্য করবে।

শীতে অনেক শীতবাহিত রোগ হয় । কিছু টিপস রয়েছে যা মেনে চললে খুব সহজেই এড়িয়ে চলতে পারবেন শীতবাহিত এসব রোগ

১. সঠিক খাবার
বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্থতার চাবিকাঠি। এ ক্ষেত্রে আপনার খেতে হবে পর্যাপ্ত শাক-সবজি, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা ধরনের ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার। এ ছাড়া রয়েছে মুরগির মাংস, মাছ ও ডিম। দুধ ও দুধজাত সামগ্রীও (যেমন দই) বাড়াবে আপনার দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। তাই শীতকালীন রোগ দূরে রাখতে এসব খাবার বেশি করে খান।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শীতকালে অনেকেরই পানির পিপাসা সেভাবে অনুভূত হয় না। আর এ কারণে পানি পানের পরিমাণও কমে যায়। যদিও রোগ প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকার জন্য শীতকালে পিপাসা না লাগলেও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৩. একটু হাঁটা
সুস্থ দেহের জন্য শারীরিক পরিশ্রম করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষজ্ঞরা সর্বদা বলেন। তবে এটি শুধু সাধারণ বক্তব্য নয়, শীতকালে রোগ-জীবাণুর হাত থেকে দেহ রক্ষা করার জন্য অন্তত আধঘণ্টা জোরে হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর এ কাজটি করতে পারলে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়বে তেমন দেহও সুস্থ থাকবে।

৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
মানসিক চাপ মানুষকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এতে কমে যায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও। এ ছাড়া আরো কিছু কারণে মানসিক চাপ ক্ষতি করে আপনার দেহের । তাই সুস্থ থাকতে চাইলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ রাখুন।

৫. পর্যাপ্ত ঘুমান
অনেকেরই স্মরণ থাকে না প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের বিষয়টি। বিশেষজ্ঞদের, দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম বাড়াবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। আর এ বিষয়টি শীতকালে আপনাকে মৌসুমি রোগ থেকেও রক্ষা করবে।

এই পাতাটি ১২৭বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ




যোগাযোগ
প্যারামেডিকেল রোড
লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী
Email: info@rajdoc.com
Phone: +8801753226626

Now 9 visitors online