ফ্যাটি লিভার মানেই কি সাধারণ সমস্যা?
Share on

১৬-০৫-২০২৬

ফ্যাটি লিভার মানেই কি সাধারণ সমস্যা?

বর্তমানে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে বলা হয় MASLD (Metabolic dysfunction-Associated Steatotic Liver Disease), যা আগে Fatty Liver বা NAFLD নামে পরিচিত ছিল। অনেকের ক্ষেত্রে এটি প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন জটিলতা সৃষ্টি না করলেও, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। তখন এই অবস্থাকে বলা হয় MASH (Metabolic dysfunction-Associated Steatohepatitis), যা তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
• অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
• ডায়াবেটিস
• উচ্চ কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড
• উচ্চ রক্তচাপ
• অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা

সম্ভাব্য লক্ষণ:
ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষের শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে—
• দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি
• পেটের ডান পাশের উপরের অংশে অস্বস্তি বা ভারী অনুভূতি

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
ফ্যাটি লিভার নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হতে পারে, যেমন—
• রক্ত পরীক্ষা
• আল্ট্রাসাউন্ড বা MRI
• FibroScan
• বিশেষ ক্ষেত্রে Liver biopsy

অবহেলা করলে কী হতে পারে?
দীর্ঘদিন চিকিৎসা বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া থাকলে কিছু রোগীর লিভারে fibrosis বা স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে Cirrhosis-এ রূপ নিতে পারে।

জটিল অবস্থায় যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে:
• পা ফুলে যাওয়া
• শ্বাসকষ্ট
• জন্ডিস
• অতিরিক্ত দুর্বলতা
• রক্ত বমি বা কালো পায়খানা

চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ:
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
• ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ধীরে ধীরে ওজন কমানো
• নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম
• স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস
• ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
• অ্যালকোহল পরিহার করা

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে লিভারে fibrosis বা scarring শুরু হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

সুখবর হলো—
সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং লিভারের জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।

ডাঃ মোঃ মোবাসসিরুল ফেরদৌস
পরিপাকতন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিশেষজ্ঞ এবং থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট।
এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্থ্য), এমডি(গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), এমএসিপি(আমেরিকা)



এই পাতাটি ১৬বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ