Dymind DH-85 / DH-88 সিরিজ হলো একটি নেক্সট-জেনারেশন এবং অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৫-পার্ট ও ৬-পার্ট সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সিবিসি (CBC) মেশিন। এটি ডাইমাইন্ড ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ (সবচেয়ে দামি) মেশিনের সমস্ত প্রিমিয়াম টেকনোলজি নিয়ে তৈরি, যা মাঝারি ও বড় ল্যাবরেটরির কাজের গতি এবং রিপোর্টের নিখুঁততাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সহজ কথায়, যারা কম খরচে ও কম জায়গায় বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সমৃদ্ধ রক্ত পরীক্ষা প্রযুক্তি ল্যাবে যুক্ত করতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ।
এই মেশিনের বৈপ্লবিক বৈশিষ্ট্য ও ক্লিনিক্যাল সুবিধাসমূহ
১. এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ম্যাজিক
এই মেশিনে রয়েছে অ্যাডভান্সড ইন্টেলিজেন্ট অ্যালগরিদম (AI)। রক্তে যদি কোনো অস্বাভাবিক কোষ (যেমন: ব্লাস্ট সেল বা ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ, ইমম্যাচুর গ্র্যানুলোসাইট) থাকে, তবে এই এআই প্রযুক্তি তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত (Flagging) করে ল্যাব টেকনিশিয়ানকে অ্যালার্ম দেয়। জটিল রোগ নির্ণয়ে এটি ডাক্তারদের ধাপে ধাপে গাইডলাইন প্রদান করে।
২. অ্যাডভান্সড লেজার ও ফ্লুওরেসেন্ট টেকনোলজি
শ্বেতকণিকার নিখুঁত ৫-পার্ট এবং ৬-পার্ট শ্রেণীবিভাগের জন্য এটি সেমিকন্ডাক্টর লেজার স্কেটারিং (Laser Scattering) এবং ফ্লুরোসেন্ট ডাই স্টেনিং (Fluorescent Dye Staining) প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে রক্তে রেটিকুলোসাইট (RET) এবং নিউক্লিওটেডেড রেড ব্লাড সেল (NRBC)-এর মতো অত্যন্ত জটিল উপাদানগুলোও নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে।
৩. ভুল রিপোর্ট প্রতিরোধের স্মার্ট সুরক্ষা (Anti-Interference)
ল্যাবগুলোতে রক্ত পরীক্ষার সময় কিছু কমন ভুলের কারণে রিপোর্ট ভুল আসে। এই মেশিন সেই ভুলগুলো নিজেই সংশোধন করে নেয়:
প্লাটিলেট জট খোলা (EDTA Platelet De-clumping): অনেক সময় কেমিক্যালের কারণে রক্তকণিকা জমাট বেঁধে প্লাটিলেটের সংখ্যা ভুলবশত কম দেখায়। এই মেশিনের বিল্ট-ইন প্রযুক্তি সেই জমাট খুলে প্লাটিলেটের একদম সঠিক কাউন্ট দেয়।
আরবিসি ওয়ার্ম বাথ (RBC Warm Bath Solution): ঠাণ্ডাজনিত কারণে লোহিত রক্তকণিকা জমাট বাঁধলে (Cold Agglutination) মেশিন নিজেই তাপমাত্রা সমন্বয় করে রক্তকে স্বাভাবিক করে নেয় এবং ত্রুটিহীন রিপোর্ট নিশ্চিত করে।
৪. অটো-স্যাম্পলার ও ইমার্জেন্সি মোড
এটিতে রয়েছে অটোমেটিক স্যাম্পল নেওয়ার সুবিধা (Walk-away Auto-sampler)। অর্থাৎ টেকনিশিয়ানকে বারবার দাঁড়িয়ে থেকে রক্ত দিতে হবে না, মেশিন নিজে নিজেই একের পর এক টেস্ট করতে থাকবে। পাশাপাশি হঠাৎ কোনো ইমার্জেন্সি বা আইসিইউ-র সিরিয়াস রোগী আসলে তার টেস্ট আগে করার জন্য এতে বিশেষ STAT মোড রয়েছে।
টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন (এক নজরে তথ্য)
ফিচার বিস্তারিত তথ্য
ব্যবহৃত প্রযুক্তি লেজার স্কেটারিং + ফ্লুরোসেন্ট ফ্লো সাইটোমেট্রি + শিথ ফ্লো ইম্পিডেন্স
টেস্ট করার গতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০টি টেস্ট (মডেল ভেদে)
প্রয়োজনীয় রক্তের পরিমাণ হোল ব্লাডের জন্য মাত্র ৮৫ µL (মাইক্রোলিটার) | আঙুল ফোটানো রক্তের জন্য মাত্র ২৭.৫ µL
রিপোর্ট স্টোরেজ ৩,০০,০০০ (৩ লাখ) রোগীর সম্পূর্ণ ডাটা ও গ্রাফ (Scattergram) জমা রাখা যায়
ইউজার ইন্টারফেস ১৫.৬ ইঞ্চি বিশাল হাই-ডেফিনিশন (HD) ইন্টারেক্টিভ টাচস্ক্রিন
মেশিন পরিষ্কারের নিয়ম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (Hands-free); মেশিন নিজেই নিজেকে প্রতিদিন ক্লিন ও মেইনটেইন করে
বাংলাদেশের ল্যাবগুলোর জন্য কেন এটি গেম-চেইঞ্জার?
১ মিনিটে ২টি টেস্ট: ঘণ্টায় ১০০-১১০টি টেস্ট করার ক্ষমতার কারণে ঢাকার বড় বড় ডায়াগনস্টিক বা রাজশাহীর ব্যস্ততম ল্যাবগুলোর প্রতিদিনের শত শত টেস্টের চাপ এটি একাই সামলাতে পারবে।
৪ ধরনের স্যাম্পল মোড: এটি শিরার রক্ত (Whole Blood), আঙুলের রক্ত (Capillary Blood), প্রি-ডিলিউটেড ব্লাড এবং শরীরের অন্যান্য তরল (Body Fluid যেমন: পিউরাল ফ্লুইড, অ্যাসাইটিক ফ্লুইড) নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতে পারে।
কস্ট ও স্পেস সেভিং: সাধারণত এত হাই-এন্ড ফিচার সংবলিত মেশিনগুলো আকারে বিশাল হয় এবং আলাদা বড় রুম লাগে। কিন্তু Dymind-এর এই সিরিজটি টেবিলের ওপর সামান্য জায়গায় (Benchtop) এঁটে যায় এবং কেমিক্যালের খরচও অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
আদর্শ ব্যবহারকারী
বাংলাদেশের যেকোনো বিভাগীয় বা জেলা শহরের বড় ও মাঝারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কর্পোরেট ল্যাব এবং ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা জরুরি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি ওয়ার্কস্টেশন।