রাজডক - Rajdoc


ডায়াবেটিসে চোখের সমস্যা

ডায়াবেটিসে চোখের সমস্যা

ডায়াবেটিস শরীরের যেসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো চোখ। ডায়াবেটিসে চোখের সর্বস্তরের কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে রেটিনার ক্ষতিই সবচেয়ে মারাত্মক। কেননা তাতে ডায়াবেটিস রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়। ডায়াবেটিস রোগীর চোখের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালির সমস্যাটিই মূলত এ জন্য দায়ী।

ডায়াবেটিস রোগীর চোখে সমস্যার কারণ
ঠিকমতো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থতা, উচ্চ রক্তচাপ, প্রস্রাবে আমিষের (প্রোটিনের) উপস্থিতি, রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল গর্ভধারণ ও রক্তস্বল্পতা। ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিতভাবে চোখের দিতে হবে। এ জন্য ডায়াবেটিস ধরা পড়ার সময় থেকে শুরু করে প্রতি দুই বছরে কম পক্ষে একবার চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। আর চোখে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে (রেটিনোপ্যাথি) তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের কারও কারও উচ্চ ইন্ট্রাঅকুলার চাপ থাকতে পারে। এ জন্য চোখে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

রক্তে উচ্চমাত্রার সুগার রক্তনালির জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললে রক্তনালির গায়ে একধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। বিশেষ করে সূক্ষ্ম রক্তনালি দুর্বল ও সরু হয়ে স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালনের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে কোষে অক্সিজেন–স্বল্পতা দেখা দেয়। এ অবস্থাকে বলে ইস্কেমিয়া। ইস্কেমিয়ার দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। প্রথমত, অক্সিজেনবঞ্চিত কোষগুলো ক্রমান্বয়ে নিস্তেজ হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোষ রক্ষায় বিকল্প হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন রক্তনালি তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই রক্তনালিগুলো খুবই ভঙ্গুর। ফলে খুব সহজেই এগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয়। এভাবেই আমাদের চোখের পেছনে অবস্থিত রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাকে বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি।

যাঁদের ৩০ বছর বয়সের আগেই ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়েছে, তাঁরা রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকিতে থাকেন বেশি। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা ও হাইপার লিপিডেমিয়া বা কোলেস্টেরোলের উচ্চমাত্রা রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি বাড়ায়। কিডনি সমস্যায়ও রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি বেশি। গর্ভাবস্থার প্রথম চার মাসে এই ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া স্থূলতা, ধূমপান ও রক্তশূন্যতা রেটিনোপ্যাথিকে ত্বরান্বিত করে।

রেটিনোপ্যাথির প্রভাবে কী হয়
রেটিনোপ্যাথির প্রাথমিক অবস্থায় অক্সিজেন–স্বল্পতার কারণে রক্তনালির গায়ে যে ভঙ্গুরতা দেখা দেয়, তার প্রভাবে রক্তনালি থেকে প্লাজমা বের হয়ে রেটিনার কোষে জমতে থাকে। এ ছাড়া ছোট ছোট রক্তক্ষরণের মতো ঘটনা ঘটে। দৃষ্টিশক্তি ক্রমান্বয়ে কমে যায়।

চিকিৎসা
• রেটিনোপ্যাথি ঠেকানোর প্রধানতম উপায় হলো ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। ব্যায়ামের অভ্যাস করা। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিডনির সমস্যার প্রতিকারে ব্যবস্থা নেওয়া। ধূমপান পরিহার করুন।
• রেটিনোপ্যাথি হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।
• কঠোরভাবে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
• রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তচাপ ১৩০/৭০ মিলি মিটার পারদ রাখতে পারলে ভালো। এ ক্ষেত্রে এসিইআই ও এআরবি জাতীয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধগুলো ভালো

মনে রাখতে হবে
• সময়মতো ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করতে পারলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা কমে যায়।
• ডায়াবেটিসের স্থায়িত্ব সময়কালে রেটিনোপ্যথির তীব্রতা ও চক্ষুগোলকের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে।
• চিকিৎসা করেও মারাত্মক চোখের সমস্যার তেমন কোনো উন্নতি করা যায় না, এতে চোখের ক্ষতির পরিমাণ শুধু কমানো য়ায়।
• যাদের দৃষ্টিশক্তি ক্রমাগত কমতে থাকছে এবং ইন্ট্রাঅকুলার চাপ বাড়ছে, তাদের সত্বর চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
• ১০ বছর থেকে ৩০ বছর বয়সী সব ডায়াবেটিস রোগী যাদের বছরোর্ধ সময় ধরে ডায়াবেটিস আছে এবং ৩০ বছরের বেশি বয়সের ডায়াবেটিস রোগীদের চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি। আজকাল লেজার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথির রোগীদের। এতে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা কমেছে।

এই পাতাটি ৭৬বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য প্রবন্ধ




যোগাযোগ
প্যারামেডিকেল রোড
লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী
Email: info@rajdoc.com
Phone: +8801753226626

Now 8 visitors online