পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ
Share on

2025-10-06 10:22:53

পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ

বর্তমানে শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের বন্ধ্যাত্বও (Infertility) বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৩০–৪০% দম্পতির সন্তান না হওয়ার পেছনে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তাই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

বন্ধ্যাত্ব কী?
যদি কোনো দম্পতি নিয়মিত দাম্পত্য জীবনযাপনের পরও এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটিকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। এটি নারী বা পুরুষ উভয়ের কারণেই হতে পারে।

পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের সাধারণ লক্ষণসমূহ
পুরুষদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্ব অনেক সময় সরাসরি বোঝা যায় না। তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • শুক্রাণুর পরিমাণ বা গুণগত মান কমে যাওয়া – বীর্যপাতের পর পরিমাণ কম বা ঘনত্ব কম মনে হলে এটি একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
  • যৌন ইচ্ছা বা শক্তি কমে যাওয়া – হরমোনজনিত সমস্যার কারণে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে গেলে তা বন্ধ্যাত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
  • বীর্যপাতজনিত সমস্যা – যেমন অল্প সময়েই বীর্যপাত হয়ে যাওয়া (early ejaculation) বা একেবারেই না হওয়া।
  • অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব – ভেরিকোসিল (Varicocele) বা সংক্রমণজনিত কারণে এ সমস্যা হতে পারে।
  • অণ্ডকোষ ছোট বা নরম হওয়া – এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা বংশগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
  • দাড়ি-গোঁফ বা শরীরে লোম কমে যাওয়া – টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাবে এমনটা দেখা দিতে পারে।
  • বারবার ক্লান্তি বা বিষণ্ণতা অনুভব করা – হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত হতে পারে।


কেন এই সমস্যা বাড়ছে?
বাংলাদেশে পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—

  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
  • ধূমপান, মাদক ও অ্যালকোহল সেবন
  • অপুষ্টিকর খাবার ও স্থূলতা
  • দীর্ঘসময় বসে কাজ করা (যেমন অফিস জব বা ড্রাইভারদের ক্ষেত্রে)
  • দূষণ ও পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ
  • যৌনরোগের সঠিক চিকিৎসা না নেওয়া


করণীয়
যদি এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দেয়, লজ্জা না পেয়ে একজন অ্যান্ড্রোলজিস্ট বা ইউরোলজিস্ট ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে বীর্য পরীক্ষার (Semen Analysis) মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় সমস্যার ধরন ও মাত্রা সম্পর্কে।

উপসংহার
পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব কোনো লজ্জার বিষয় নয়; এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য শারীরিক সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন (যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম) মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।



এই পাতাটি ৫৫বার পড়া হয়েছে